নোটিশ
বিজ্ঞপ্তি
বিষয়ভিত্তিক প্রস্তুতিকে আরো সহজতর করে তুলতে বিসিএস জানালা প্রতিনিয়ত বিভিন্ন কোর্স ডেভোলপ করে যাচ্ছে। আশাকরি আমাদের পরিশ্রম শিক্ষার্থীদের প্...
জিজ্ঞাসা লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
জিজ্ঞাসা লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
১৩.১.২২
বিসিএস প্রস্তুতি : শূন্য থেকে যেভাবে শুরু করবেন
বিসিএস প্রস্তুতি : শূন্য থেকে যেভাবে শুরু করবেন (BCS Preparation)
Posted onApril 4, 2021 BySabbir Ahmed Showrov No Commentson বিসিএস প্রস্তুতি : শূন্য থেকে যেভাবে শুরু করবেন (BCS Preparation)
পোস্টটি শেয়ার করুন !
বাংলাদেশের ইতিহাসের সবচেয়ে বড় এবং প্রতিযোগিতা মূলক পরীক্ষা হল বিসিএস- বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিস পরীক্ষা। প্রতিবছর লাখো প্রার্থী আবেদন করেন। ক্যাডার হওয়ার সুযোগ পান ২ হাজারের মত।
১টি ক্যাডারের বিপরীতে যুদ্ধ করেন ২৭০ জনের ও বেশি প্রার্থী! ভাবা যায়? পৃথিবীর নামকরা বিশ্ববিদ্যালয় হার্ভার্ড, কেমব্রিজ, অক্সফোর্ড এর চেয়ে ও প্রতিযোগিতা বেশি হয় বাংলাদেশের বিসিএস পরীক্ষায়। প্রার্থীদের সংখ্যাটা দিন দিন বাড়লে ও ক্যাডারের সংখ্যা বাড়ছে না। তাই প্রতিযোগিতার মাত্রা অকল্পনীয়। এই প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে হলে চাই প্রচুর পড়াশুনা। অধ্যবসায়, নিয়মমাফিক বিসিএস প্রস্তুতি ছাড়া বিসিএস ক্যাডার হওয়া অসম্ভব।
বাংলাদেশের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ চাকরি বিসিএস ক্যাডার হওয়ার জন্য দৌড় ঝাপ শুরু করতে হয় অনেক আগে থেকেই। যে যত বেশি পড়বে তার টিকে যাওয়ার সম্ভাবনা তত বেশি।
আজকেল আর্টিকেলে বিসিএস প্রস্তুতির (BCS Preparation) আদ্যোপান্ত নিয়ে আলোচনা করব। (How to take BCS preparation?)
১। সিরিয়াস হওয়াঃ
প্রথমেই নিজের মাইন্ড সেট করে ফেলতে হবে। বিসিএস অন্য যেকোন একটি পরীক্ষার মতই একটি পরীক্ষা। তবে সেটা জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ এবং কঠিন পরীক্ষা। তাই এই পরীক্ষায় পাশ করতে পড়াশুনা করতে হবে নিয়মিত। অনেক প্রার্থীর টেবিলে দিনের পর দিন বিসিএস এর বই পরে থাকে। কেউ খুলেও দেখেন না। আজকে পড়ব, কালকে পড়ব এভাবে করে মাসের পর মাস চলে যায়। বইয়ের উপর ধুলো পড়ে, কিন্তু পড়া আর হয় না। তাই শুধু বই কিনে জমা করলেই হবে না। সিরিয়াস হয়ে সেই বইগুলো প্রতিদিন পড়তে হবে।
২। বিসিএস পরীক্ষার জন্য কখন থেকে পড়া শুরু করব?
আপনার যদি ইচ্ছা থাকে বিসিএস এ যোগ দেবার, তাহলে বিশ্ববিদ্যালয় জীবন থেকেই পড়া শুরু করা উচিত। শুধুমাত্র বিসিএসকে টার্গেট রেখে সিলেবাস অনুযায়ী নিয়মিত পড়াশুনা করতে হবে। তাই বিশ্ববিদ্যালয়ে থাকাকালীন অবস্থায় বিসিএস সিলেবাস ও বিসিএস পরীক্ষার পদ্ধতির সকল তথ্যাবলী সম্পর্কে ভালোভাবে দেখে বিসিএস প্রস্তুতি শুরু করা উচিত।
First Slide
৩। বিসিএস প্রস্তুতির জন্য দিনে কত ঘন্টা পড়ব?
কে কত সময় পড়বেন তা নির্ভর করবে কে কোন বিষয়ে পড়ছেন তার উপর। যদি আপনার বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবজেক্ট এ সময় বেশি দিতে হয় তাহলে কম সময় পড়বেন। কোন ভাবেই বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়াশুনা কম করে বিসিএস এর পড়াশুনা করা যাবে না।
বিসিএস প্রস্তুতি
বিসিএস পরীক্ষার ৩ টি ধাপ আছে। প্রিলিমিনারি, লিখিত ও ভাইভা পরীক্ষা। প্রিলিমিনারি শুধু টিকার পরীক্ষা। প্রার্থী কমানোর জন্য এই পরীক্ষার মাধ্যমে কিছু প্রার্থী বাছাই করা হয়। এই পরীক্ষায় নম্বর থাকে ২০০। এখানে ২০০ তে ২০০ পেলে ও কোন লাভ হবে না । শুধুমাত্র একটা পাশ মার্ক নিয়ে পাশ করতে পারলেই হল। এযাবত কালের ইতিহাসে ১২০ বা এর একটু কম-বেশি যারা পেয়েছেন তারা সবাই প্রিলিমিনারি পরীক্ষা পাশ করেছেন। অতএব প্রিলিমিনারি পরীক্ষার প্রস্তুতির জন্য বইয়ের পর বই না পড়ে দরকারি এক বই ই বারবার পড়া বুদ্ধিমানের কাজ।
৪। সিলেবাস দেখে নেয়াঃ (BCS Syllabus)
প্রস্তুতির পূর্বেই বিসিএস এর সিলেবাস প্রথম থেকে শেষ পর্যন্ত পড়া জরুরী। সিলেবাসের বাইরে সাধারনত কোন প্রশ্ন আসে না। সিলেবাস দেখে কোন বিষয়ে পারদর্শী আর কোন বিষয়ে দূর্বলতা বুঝা উচিত। ধরেন আপনি সিএসইতে পড়াশুনা করছেন। তাহলে আপনার জন্য কম্পিউটার ও তথ্যপ্রযুক্তি বিষয় অনেক সহজ। সুতরাংএই বিষয়ে অন্যদের থেকে আপনার কম পড়া লাগবে। এই সময়ে আপনি অন্য বিষয় পড়তে পারবেন।
৫। বিগত বছরের প্রশ্ন সলভ করাঃ
বিসিএস এর ইতিহাসে প্রতিবারই পূর্বের প্রশ্ন থেকে কিছু রিপিট হয়। তাছাড়া পূর্বের প্রশ্নগুলো সলভ করলে বিসিএস পরীক্ষা সম্পর্কে বাস্তবিক জানা যাবে। বাজারে প্রচলিত অনেক বই ই আছে। যেকোন একটা কিনে বিশ্ববিদ্যালয়ের ১ম বা ২য় বর্ষেই ফাঁকে ফাঁকে পড়ে ফেলা উচিত।
৬। প্রতিদিন একটি বাংলা ও ইংরেজী পত্রিকা পড়া উচিত।
পত্রিকার গুরুত্ব অপরিসীম। পত্রিকার লিখা পড়লে বিসিএস এর লিখিত পরীক্ষায় অনেক কাজে দিবে। তাছাড়া বিসিএস প্রিলিমিনারি পরীক্ষায় বাংলাদেশ বিষয়াবলি ও আন্তর্জাতিক বিষয়াবলি থেকে প্রশ্ন আসে। এই ২ বিষয়ের প্রশ্নগুলো সাধারনত পত্রিকা থেকেই করেন প্রশ্ন কর্তারা। তাই নিয়মিত পত্রিকা পড়লে এগুলো থেকে সহজেই উত্তর করা যাবে।
৭। বিশ্ববিদালয়ের ৩য় বর্ষে কিছু বিখ্যাত বই পড়ে ফেললে ভাল হয়।
“অসমাপ্ত আত্মজীবনী”, “লালনীল দীপাবলি” এই বইগুলো থেকে বিসিএসে হামেশাই কিছু প্রশ্ন থাকে। তাছাড়া ভাইভা বোর্ডে এই রকমের বইগুলো থেকে প্রশ্ন করা হয়। এগুলোর পাশাপাশি বাংলাদেশের ইতিহাস সম্পর্কিত বই, মুক্তিযুদ্ধের উপর বইগুলো পড়ে ফেলা উচিত।
৮। আপনি আপনার নিজ জেলা সম্পর্কে কতটুকু জানেন?
বিসিএস ভাইভা বোর্ডে সবাই কেই তাদের নিজ জেলা থেকে প্রশ্ন করা হয়। তাই নিজ জেলা, উপজেলা সম্পর্কে আগে থেকেই জেনে রাখুন। উইকিপিডিয়া, বাংলা পিডিয়ায় এই তথ্য গুলো পেয়ে যাবেন।
৯। বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪র্থ বর্ষ থেকে বিসিএস এর সিলেবাস অনুযায়ী প্রতিটি বিষয়ের জন্য বিষয়ভিত্তিক বই পড়া উচিত।
নিয়মিত পড়াশুনা করলে প্রতিটি বিষয়ে খুব ভাল একটা প্রস্তুতি নেয়া সম্ভব। পড়াশুনার সময় যে টপিক গুলো কঠিন লাগে সেগুলো খাতায় লিখে রাখলে ভাল হবে। সেগুলো কয়েক দিন পর পর রিভিশন দিলে মনে থাকবে।
১০। সর্বোপরি বিসিএস একটা পরীক্ষা। হ্যাঁ খুব কঠিন, কিন্তু অসম্ভব কিছু নয়।
আপনি বিশ্ববিদ্যালয় বা এইচএসসির কোন পরীক্ষার আগের রাতে যেভাবে পড়াশুনা করেছিলেন তার ৪ ভাগের ১ ভাগ ও যদি প্রতিদিন বিসিএস পরীক্ষার জন্য পড়েন, তাহলে বিসিএস পরীক্ষায় আপনার দৌড় ১ম ১০০ জনের মধ্যেই থাকবে।
ব্যাংক জব করতে চাইলে ব্যাংক জব সার্কুলারটি পড়ুন।
তাই সিরিয়াস হয়ে নিয়মিত পড়াশুনা করা জরুরী। ‘১ সপ্তাহ পড়ে বিসিএস পাশ’ এই কথাগুলো পড়তে ভাল লাগলেও বাস্তবে এমন প্রার্থীর দেখা মিলে না। তাই কম সময়ে খুব বেশি না পড়ে, বেশি সময় ধরে অল্প অল্প পড়ুন। তাছারা আপনি Hello BCS অ্যাপ বাবহার করে বিসিএস প্রস্তুতি ও অন্যান্য চাকরির সকল প্রস্তুতি নিতে সহায়ক ভূমিকা পালন করবে।
১২.১.২২
বিসিএস কি, কেন এবং কিভাবে প্রস্তুতি শুরু করবেন?
বিসিএস এর পূর্ণরূপ হল বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিস। মানুষের সহজাত কিছু চাহিদা থাকে। আমরা কেউ ক্ষমতার পাগল। কেউ সম্মানের পাগল। কেউ উন্নত জীবনযাপনের পাগল। বিসিএস আপনাকে সম্মান, ক্ষমতা, টাকা এবং সামাজিক মর্যাদা এনে দিবে।
কন্যার পিতা-মাতা নিজের কন্যার নিরাপত্তা, উন্নত জীবনযাপনের জন্য বিসিএস ক্যাডার পাত্র খুঁজেন। একজন বিসিএস ক্যাডারের বিয়ের পাত্রীর অভাব হয় না। একটার পরে আরেকটা বিয়ের প্রস্তাব আসে। যেকোন সামাজিক অনুষ্ঠানে থাকে বিশেষ খাতির। প্রশাসনিক, অর্থনৈতিক সব দিক দিয়ে একজন বিসিএস ক্যাডার সমসাময়িক অন্য কারো থেকে উপরে থাকেন। তাই অনার্স পাশ করার পরেই ৯০ ভাগ শিক্ষার্থীরা বিসিএস এর পেছনে ছুটেন।
বর্তমানে মেয়েরা ও বিসিএস এর প্রতি আগ্রহ দেখাচ্ছেন। ঘর সংসারের কাজের পাশাপাশি দেশের গুরুত্বপূর্ণ কাজগুলোতে যুক্ত হচ্ছেন।
সব জায়গায় “বিসিএস” নামক সোনার হরিণ এর জয়জয়কার।
এই “বিসিএস” পরীক্ষা আসলে কি?
কিভাবে বিসিএস পরীক্ষা হয়?
বিসিএস ক্যাডার হবার সুযোগ সুবিধা কি?
এই বিষয়গুলো নিয়ে থাকছে আজকের আর্টিকেল।
বিসিএস কি?
সোজা কথায় একটি পরীক্ষার নাম। এই পরীক্ষায় পাশ করে সরকারি প্রথম শ্রেণীর চাকরিতে যোগদান করতে হয়।
সিভিল সার্ভিস মানে কি?
সোজা বাংলায় সরকারি চাকরি। প্রতিটি দেশেই সরকারি চাকরি মোটামোটি দুইভাগে বিভক্ত। মিলিটারি আর সিভিল। মিলিটারি বলতে সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী, বিমানবাহিনী বুঝায়। সিভিল বলতে প্রশাসন, পুলিশ, ট্যাক্স, পররাষ্ট্র, অডিট ইত্যাদি বুঝায়।
বিসিএস ক্যাডার মানে কি?
ক্যাডার মানে কোন গুন্ডা মাস্তান নয়।
First Slide
বরং ক্যাডার হল কোন সুনির্দিষ্ট কাজ করার জন্য প্রশিক্ষণ প্রাপ্ত একটি দল। সুনির্দিষ্ট কাজ বলতে সরকারের আদেশ, নিষেধ, পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা বুঝায়। সরকারী চাকুরির সুনির্দিষ্ট দায়িত্ব পালন করতে নিয়োগ প্রাপ্তদের বিশেষ প্রশিক্ষণ দিয়ে গড়ে তোলা হয়, তাই এদের সিভিল সার্ভিস ক্যাডার বলা হয়।
একজন বিসিএস ক্যাডার প্রজাতন্ত্রের চাকর। জনতার চাকর। জনতার ভোটে নির্বাচিত সরকারের চাকর।
বিসিএস ক্যাডার মূলতঃ দুই প্রকার। জেনারেল ( পুলিশ, এডমিন, পররাষ্ট্র ইত্যাদি) এবং টেকনিক্যাল ( শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কৃষি, সড়ক ও জনপদ ইত্যাদি)। জেনারেল ক্যাডারে যে কেউ যে কোন সাবজেক্ট থেকে পরীক্ষা দিয়ে চাকুরি করতে পারেন, কিন্তু টেকনিকাল ক্যাডারে চাকুরি করতে হলে নির্দিষ্ট বিষয়ে শিক্ষাগত যোগ্যতা থাকা লাগবে। যেমন এমবিবিএস ডিগ্রি ছাড়া কেউ সরকারী ডাক্তার হয়ে চাকুরি করতে পারবেন না।
একটা কথা বলা প্রয়োজন, ক্যাডার চয়েসের ক্ষেত্রে আপনার যা ভালো লাগে তা ঠিক করুন। কারণ, চাকরিটা আপনি করবেন। আপনার পছন্দের অবশ্যই একটা দাম আছে।
বাংলাদেশে বর্তমানে ২৭ ধরনের ক্যাডার রয়েছে।
বিসিএস পরীক্ষাটি বিপিএসসি, বাংলাদেশ পাবলিক সার্ভিস কমিশন পরিচালনা করে। এই পরীক্ষা যে শুধুমাত্র বাংলাদেশের সবচেয়ে কঠিন পরীক্ষা সেটি কিন্তুনয়। পুরো বিশ্বে এর মত কঠিন পরীক্ষা বেশি নেই।
হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয় পুরো পৃথিবী জুড়ে আলোচিত একটি প্রতিষ্ঠান। ২০২১ সালে ৪০২৪৮ জন শিক্ষার্থী আবেদন করে ছিলেন হার্ভার্ডে। সুযোগ পেয়েছেন ২০৫১ জন। হিসাব করলে দেখা যায় ১টি আসনের জন্য লড়াই করেছেন ১৯ জন শিক্ষার্থী।
অপর দিকে ৪১ তম বিসিএস পরীক্ষায় আবেদন করেছেন ৪ লক্ষ ৭৫ হাজারের ও বেশি শিক্ষার্থী। আসন সংখ্যা ২ হাজার। এখানে প্রতি আসনে লড়াই করবেন ২৩৭ জন!
ভাবা যায়?
এত প্রতিযোগিতার পরেও কেন বিসিএস নিয়েশিক্ষার্থীদের এত আগ্রহ? বিসিএস ক্যাডারদের রয়েছেনা নামূখী সুবিধা। যা অন্যান্য চাকরি থেকে বিসিএসকে নিয়ে গেছে অনন্য উচ্চতায়।
১) চাকরির স্থায়ী নিশ্চয়তা আছে। খুব বড় কোন অঘটন না ঘটালে চাকরি যাবেনা। শতকরা ৯৯ ভাগ ক্ষেত্রে বদলি, বেশি হলে ডিমোশন হয়।
২) চাকরির শুরুতেই ভালো বেতন। একজন ক্যাডারের বেতন শুরু হয় জাতীয় ৯ম গ্রেড বেতন স্কেলে। বেসিক ২২০০০ থেকে শুরু।চাকরির একেবারে প্রথমেই ১১০০ টাকার একটা ইনক্রিমেন্ট পাওয়া যায়। আবার যারা টেকনিক্যাল ক্যাডার (ডাক্তার, শিক্ষাইত্যাদি) তারা অতিরিক্ত আরো একটি ইনক্রিমেন্ট পান।
৩) বাচ্চাদের জন্য মাসিক শিক্ষা ভাতা দেয় সরকার। একজন শিশুর জন্য মাসিক ৫০০ টাকা বরাদ্দ থাকে।
৪) বাসস্থান, যোগাযোগ মাধ্যম, টিফিন ভাতা সহ নানা ধরনের ভাতা দেয়া হয়।
৫) যেকোন ক্যাডারের মান সম্মান সমাজের অন্যান্য যেকোন চাকুরিজীবীদের চাইতে বেশি। সামাজিক, রাষ্ট্রীয় যেকোন অনুষ্ঠানে আলাদা মর্যাদা থাকে।
৬) ৫ বছর পর্যন্ত শিক্ষা ছুটি নেয়ার সুযোগ থাকে ক্ষেত্র বিশেষে।
৭) চাকরি শেষে বিশাল মূল্যের পেনশন পাওয়া যায়। পেনশনের টাকা দিয়ে বাকি জীবন স্বাচ্ছন্দ্যে চলে যায়।
৮) সর্বোপরি সমাজ, দেশের জন্য সামনে থেকে কাজ করার সুযোগ থাকে।
এই পরীক্ষাটাও বেশ জটিল। ৩ টি ধাপ পার করতে হয় বিসিএস ক্যাডার হওয়ার জন্য।
বিসিএস প্রস্তুতি
১ম ধাপঃ প্রিলিমিনারি পরীক্ষা। ১০টি বিষয় থেকে মোট ২০০ নম্বরের পরীক্ষা হয়। সময় থাকে ২ ঘন্টা। এই পরীক্ষায় শুধু বাছাই করা হয় প্রার্থীদের। প্রিলি পরীক্ষার নম্বর মূল পরীক্ষায় ধরা হয় না। পরীক্ষাটি এমসিকিউ পদ্ধতিতে হয়ে থাকে।
২য় ধাপঃ লিখিতপরীক্ষা। ৯০০ নম্বরের এই পরীক্ষা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। গড় পাস নম্বর ৫০%। এই পরীক্ষায় উত্তীর্ণদের ভাইভায় ডাকা হয়।
৩য় ধাপঃ ভাইভা পরীক্ষা। ভাইভায় ২০০ নম্বর থাকে।পাশ নম্বর ৫০%। ভাইভা বোর্ড গঠিত হয় একজন চেয়ারম্যান এবং একজন বোর্ড সদস্য দ্বারা। ভাইভায় একাডমিক পড়াশুনা, দেশ, সমাজ ও রাজনীতি নিয়ে প্রশ্ন করা হয়।
লিখিত পরীক্ষা এবং ভাইভা পরীক্ষার মোট নম্বর মিলিয়ে, অর্থাৎ ৯০০+২০০= ১১০০ নম্বরের মধ্যে একজন প্রার্থীযতপাবেন, তার ভিত্তিতে তাকে নিয়োগ দেয়ার সুপারিশ করে বাংলাদেশ পাবলিক সার্ভিস কমিশন (বিপিএসসি) । এই সব পরীক্ষায় অংশগ্রহণের আগেই বিসিএস সিলেবাস ও মানবন্টন ভালোভাবে জেনে বিসিএস পরীক্ষার প্রস্তুতি নিতে হয়। তাছারা আপনি Hello BCS অ্যাপ বাবহার করে বিসিএস প্রস্তুতি ও অন্যান্য চাকরির সকল প্রস্তুতিতে সহায়ক ভূমিকা পালন করবে।
বিপিএসসির সুপারিশ অনুযায়ী ক্যাডারদের নিয়োগ দেয় জন প্রশাসন মন্ত্রণালয়। চূড়ান্ত ভাবে নিয়োগ পাওয়ার আগে প্রত্যেক ক্যাডারের স্বাস্থ্য পরীক্ষা, পুলিশ ভেরিফিকেশন এবং এনএসআই (জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা) ভেরিফিকেশন করা হয়। এই ৩ টি পরীক্ষায় উতরে গেলে ক্যাডাররা গেজেটেড ভুক্ত হন।
বিসিএস পরীক্ষা দেওয়ার যোগ্যতা কি কি?
এমন অনেক মানুষ আছেন, যারা বিসিএস পাশ করেও ক্যাডার হতে পারেননি। কি, অবাক লাগছে? অবাক লাগার কিছু নেই। সিভিল সার্ভিস বাংলাদেশের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ চাকরি। এই চাকরিতে আসার আগে, প্রার্থী এই চাকরির যোগ্য কি না সেটা খুব ভালোভাবেই বিবেচনা করা হয়। তবে যোগ্যতার মানদন্ডে আহামরি কোন শর্ত নেই।
যাদের চোখে সমস্যা তাদের একটা ভয় কাজ করে বিসিএস নিয়ে। আমার তো চোখে মোটা ফ্রেমের চশমা, আমি কি বিসিএস দিতে পারব?
বিসিএস পরীক্ষা
যাদের বিশ্ববিদ্যালয় পরীক্ষায় ভালো সিজিপিএ নেই তারা হতাশাগ্রস্ত। এই কম সিজি নিয়ে কি ক্যাডার হতে পারব?
এরকম অসংখ্য দুশ্চিন্তা, ভয় থাকে আমাদের। আমরা নেগেটিভ বিষয় নিয়ে ভাবতে ভালোবাসি। কোন একটা জিনিস না থাকলে আমার কি হবে, সেটা নিয়েই আমাদের যত মাথাব্যাথা।
আদতে বিসিএস পরীক্ষার যোগ্যতা অনেকটা শিথীল। যে কেউই আবেদন করতে পারবেন যদিনা খুব বড় ধরনের কোন সমস্যা থাকে।
মূলত ৪ ধরনের যোগ্যতা বিবেচনা করা হয় প্রার্থীদের জন্য।
First Slide
১। শিক্ষাগত যোগ্যতা
২। বয়সসীমা
৩। নাগরিকত্ব
৪। শারীরিক যোগ্যতা
বিসিএস এর নূন্যতম শিক্ষাগত যোগ্যতাঃ
বিসিএস পরীক্ষায় আবেদন করতে চাইলে এসএসসি থেকে স্নাতক পর্যন্ত পাশ করতে হবে। স্নাতক বলতে ৪ বছর মেয়াদী কোর্স বুঝায়। এসএসসি থেকে স্নাতক পর্যন্ত সবগুলো পরীক্ষার যেকোন দুটিতে দ্বিতীয় শ্রেণী বা সমমান এবং ১টি তৃতীয় শ্রেণী বা সমমান এর নিচে পেলে সেই প্রার্থী বিসিএস পরীক্ষা দিতে পারবেন না।
যদি কোন প্রার্থী এইচএসসি পরীক্ষা শেষে ডিগ্রী বা ৩ বছর মেয়াদী সমমান কোর্সে পড়াশুনা করেন, তাহলে ডিগ্রী পাসের পরে স্নাতকোত্তর বা মাস্টার্স পাশ করতে হবে। তারপরে তিনি বিসিএস এ আবেদন করতে পারবেন।
বর্তমানে জিপিএ সিস্টেম থাকায় প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় শ্রেণী নির্ধারণ করতে সমস্যায় ভোগেন প্রার্থীরা। সহজ একটা হিসাব দিয়ে দিচ্ছি।
জিপিএ থেকে শ্রেণী বের করার পদ্ধতিঃ
SSC এবং HSC এর ক্ষেত্রেঃ
৩ বা তদুর্ধ্ব = প্রথম শ্রেণী
২ থেকে ৩ এর কম= দ্বিতীয় শ্রেণী
১ থেকে ২ এর কম= তৃতীয় শ্রেণী
অনার্সের ক্ষেত্রেঃ
৩ বা তদুর্ধ্ব = প্রথম শ্রেণী
২.২৫ থেকে ৩ এর কম= দ্বিতীয় শ্রেণী
১.৬৫ থেকে ২.২৫ এর কম= তৃতীয় শেণী
বয়সসীমাঃ
পিএসসি যে মাসে বিসিএস এর বিজ্ঞাপন জারি করবে সে মাসের ১ম তারিখে যদি কোন প্রার্থীর বয়স –
২১ বছরের কম হয় অথবা ৩০ বছরের বেশি হয় তাহলে ওই প্রার্থী বিসিএস পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে পারবেন না।
তবে কিছু ক্ষেত্রে বয়স সীমা শিথিল যোগ্য।
মুক্তিযোদ্ধার পুত্র বা কন্যা, প্রতিবন্ধী, স্বাস্থ্য ক্যাডারের প্রার্থীদের সর্বোচ্চ বয়সসীমা ৩২ বছর।
বিসিএস সাধারণ শিক্ষা, কারিগরি শিক্ষা, স্বাস্থ্য ক্যাডারে উপজাতীদের জন্য সর্বোচ্চ ৩২ বছর।
নাগরিকত্বঃ
বাংলাদেশের নাগরিক নয় এমন কোন ব্যক্তি বিসিএস পরীক্ষায় অংশ নিতে পারবে না। সরকারের অনুমতি ব্যতিরেকে কোন বিদেশী নাগরিককে বিয়ে করলে বা বিয়ে করার প্রতিজ্ঞা করলে তিনি বিসিএস পরীক্ষা দিতে পারবেন না।
শারীরিক যোগ্যতাঃ
লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণদের মেডিকেল টেস্ট করানো হয়। মেডিকেল টেস্টে পাশ না করলে ক্যাডার হিসেবে নিয়োগ পাওয়া যায়না।
মেডিকেল টেস্টে সাধারণতঃ
উচ্চতা, ওজন ও বক্ষ পরিমাপ করা হয়।
দৃষ্টিশক্তি যাচাই করা হয়।
মূত্র পরীক্ষা করা হয়।
উচ্চতা, ওজন ও বক্ষ পরিমাপঃ
পুরুষ প্রার্থীর ক্ষেত্রে সর্বনিম্ন উচ্চতা ৫ ফুট হতে হবে। সর্বনিম্ন ওজন ৪৯.৯৯ কেজি। তবে পুলিশ ও আনসার ক্যাডার এর জন্য সর্বনিম্ন উচ্চতা ও ওজন যথাক্রমে ৫ ফুট ৪ ইঞ্চি ও ৫৪.৫৪ কেজি হতে হবে।
মহিলা প্রার্থীর জন্য সর্বনিম্ন উচ্চতা ৪ ফুট ১০ ইঞ্চি। মহিলা প্রার্থীর সর্বনিম্ন ওজন ৪৩.৫৪ কেজি। তবে পুলিশ ও আনসার ক্যাডার এর জন্য মহিলা প্রার্থীর সর্বনিম্ন উচ্চতা ৫ ফুট হতে হবে। সর্বনিম্ন ওজন ৪৫.৪৫ কেজি হতে হবে।
উল্লেখ্য যে, ওজন কম হলেও বাড়ানোর সুযোগ দেয়া হয়।
দৃষ্টিশক্তিঃ দৃষ্টিশক্তির জন্য নিম্নলিখিত মানদন্ড অনুযায়ী বিবেচনা করা হয়।
বিসিএস পরীক্ষার যোগ্যতা
সহজ কথায় চোখে সমস্যা থাকলে ও চশমা ব্যবহার করার পরে যদি কোন সমস্যা না থাকে তাহলে ক্যাডার হতে কোন সমস্যা নেই। কেউ যদি রঙ ধরতে না পারেন তাহলে ও তিনি বিসিএস এ যোগ্য হবেন। কিন্তু সেক্ষেত্রে এই তথ্য উনার রিপোর্টে লিখা থাকতে হবে।
বক্ষ পরিমাপঃ উচ্চতার সাথে বক্ষ পরিমাপে নিম্নোক্ত চার্ট অনুসরণ করা হয়।
বিসিএস পরীক্ষার শারীরিক যোগ্যতা
মূত্র পরীক্ষাঃ মূত্র পরীক্ষাগারে পরীক্ষা করে যাবতীয় রিপোর্ট কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়।
স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য মেডিকেল টিম গঠন করেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহা পরিচালক। স্বাস্থ্য পরীক্ষায় কোন প্রার্থী অযোগ্য বিবেচিত হলে তা প্রার্থীকে এবং বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশন কে জানানো হয়।
একজন প্রার্থীকে বিসিএস পরীক্ষায় অংশগ্রহণের পূর্বে এই যোগ্যতাগুলো ও বিসিএস পরীক্ষার পদ্ধতির সকল তথ্যাবলী ভালোভাবে জানা উচিৎ। তাই এইগুলো ভালোভাবে দেখে বিসিএস পরীক্ষার প্রস্তুতি নিতে হয়।
বিসিএস পরীক্ষা পদ্ধতি (শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত বিসিএস পরীক্ষা)
বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিসে যোগদান করতে হলে ৩ ধাপে পরীক্ষা দিতে হয়। প্রতিটি ধাপের জন্য আলাদা সিলেবাস আছে। তাই বিসিএস সিলেবাস ভালোভাবে জেনে পরীক্ষার প্রস্তুতি নিতে হয়। বিসিএস পরীক্ষা বেশ সময়সাপেক্ষ এবং ক্ষেত্রবিশেষে জটিল ও বটে। এই পরীক্ষায় পাশ করতে হলে আপনাকে ৩ বার পরীক্ষা দিতে হবে। তার মানে যমের সামনে একবার নয় তিন, তিনটি বার পড়তে হবে। বিসিএস পরীক্ষার প্রস্তুতি নিতে গিয়ে আপনার হয়ত “পরীক্ষা” সিস্টেমকে গালি দিতে ইচ্ছা হবে। বলে রাখি “পরীক্ষা” আবিষ্কার করেছিলেন হেনরি ফিশেল নামের এক আমেরিকান ব্যবসায়ী। ভদ্রলোক গত হয়েছেন বেশ কয় বছর আগে। সুতরাং ভদ্রলোককে ভাল-মন্দ বলে কোন লাভ নেই। বরং চলুন বিসিএস পরীক্ষা পদ্ধতির ধরণ দেখে নেই।
অহ আচ্ছা তার আগে কিছু কথা জানা দরকার। যারা বিসিএস এ উত্তীর্ণ হোন তাদেরকে বিসিএস ক্যাডার বলা হয়। সাধারণত ২ ধরণের ক্যাডার থাকে। সাধারণ ক্যাডার এবং কারিগরি বা পেশাগত ক্যাডার। পররাষ্ট্র, এডমিন, পুলিশ এগুলো হলো সাধারণ ক্যাডার। অন্যদিকে ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার এরা হলেন কারিগরি ক্যাডার। সাধারণ ক্যাডারে যে কেউ আবেদন করতে পারবেন তবে কারিগরি বা পেশাগত ক্যাডারে চান্স পেতে হলে উক্ত বিষয়ে পড়াশুনা থাকতে হবে। যেমনঃ ডাক্তারি পেশায় যেতে হলে ডাক্তারি পড়াশোনা, এমবিবিএস পাশ করতে হবে। একজন ডাক্তার চাইলেই সাধারণ ক্যাডারে যেতে পারবেন। কিন্তু একজন রাষ্ট্রবিজ্ঞানের ছাত্র বিসিএস পাশ করে ডাক্তার হতে পারবেন না। কারণ ডাক্তারি বিষয়ে উনার পড়াশুনা নেই।
বিসিএস পরীক্ষার ৩টি ধাপঃ
প্রথম ধাপঃ প্রিলিমিনারি পরীক্ষা
দ্বিতীয় ধাপঃ লিখিত পরীক্ষা
First Slide
তৃতীয় ধাপঃ ভাইভা পরীক্ষা
প্রথম ধাপঃ প্রিলিমিনারি পরীক্ষা।
এই পরীক্ষায় ২০০ নম্বরের এমসিকিউ প্রশ্ন থাকে। মানে, প্রতিটি বহুনির্বাচনী প্রশ্নের জন্য ৪টি অপশন দেয়া থাকে। আপনাকে যেকোন একটি উত্তর করতে হয়। একটি OMR শিটে প্রশ্নের সঠিক অপশনে বৃত্ত ভরাট করতে হবে। প্রতিটি প্রশ্নের মান ০১। তবে প্রতিটি ভুল প্রশ্নের জন্য জরিমানা গুণতে হবে ০.৫০।
তাহলে, বিসিএস কি নেগেটিভ মার্কিং আছে?
– হ্যাঁ আছে।
নেগেটিভ মার্ক কত?
– ০.৫।
সোজা বাংলায় যার অর্থ, প্রতি ২টি প্রশ্ন ভুল করলে সেই ২ প্রশ্নের নম্বর তো পাবেনই না, বরং আপনার মোট নম্বর থেকে (০.৫*২) = ১ কাটা যাবে।
বিসিএস এ অনেক বেশি সংখ্যক প্রার্থী আবেদন করেন। এই সংখ্যা কমানোর জন্য প্রাথমিক বাছাই পরীক্ষাই হল প্রিলিমিনারি পরীক্ষা। এই পরীক্ষার প্রাপ্ত নম্বর পরের ধাপ গুলোতে যোগ হয় না। প্রিলিতে টিকলে পরের ধাপ অর্থাৎ লিখিত পরীক্ষা দেয়ার সুযোগ হয়।
প্রিলিমিনারি পরীক্ষায় মোট ১০ টি বিষয়ে ২০০ নম্বর থাকে।
বিসিএস প্রিলিমিনারি পরীক্ষার বিষয় ও মানবন্টনঃ
বিষয়ের নাম নম্বর
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য ৩৫
ইংরেজি ভাষা ও সাহিত্য ৩৫
বাংলাদেশ বিষয়াবলী ৩০
আর্ন্তজাতিক বিষয়াবলী ২০
ভূগোল,পরিবেশ ও দূর্যোগ ব্যবস্থাপনা ১০
সাধারণ বিজ্ঞান ১৫
কম্পিউটার ও তথ্যপ্রযুক্তি ১৫
গাণিতিক যুক্তি ১৫
মানসিক দক্ষতা ১৫
নৈতিকতা, মূল্যবোধ ও সুশাসন ১০
মোট নম্বর ২০০
দ্বিতীয় ধাপঃ লিখিত পরীক্ষা।
বিসিএস পরীক্ষা
লিখিত পরীক্ষা থেকে বিসিএস এর মূলযাত্রা শুরু। মোট ৯০০ নম্বরের পরীক্ষা হয়। লিখিত পরীক্ষায় একজন প্রার্থী চাইলে বাংলা অথবা ইংরেজি দুই ভাষায়ই উত্তর লিখতে পারবেন। ব্যাপারটা এমন না যে, আমি ইংরেজিতে লিখলে আমাকে বেশি নম্বর দেয়া হবে। লিখিত পরীক্ষার নম্বর ভাষার উপর নয় বরং লেখার মানের উপর নির্ভর করে। লিখিত পরীক্ষা সাধারণ ক্যাডার এবং কারিগরি ক্যাডারের জন্য আলাদা হয়।
সাধারণ ক্যাডারের বিষয় ভিত্তিক মানবন্টনঃ
আবশ্যিক বিষয়ের নাম নম্বর
বাংলা ২০০
ইংরেজি ২০০
বাংলাদেশ বিষয়াবলী ২০০
আর্ন্তজাতিক বিষয়াবলী ১০০
গাণিতিক যুক্তি ও মানসিক দক্ষতা ১০০
সাধারণ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি ১০০
মোট নম্বর ৯০০
কারিগরি ক্যাডাররের বিষয় ভিত্তিক মানবন্টনঃ
আবশ্যিক বিষয়ের নাম নম্বর
বাংলা ১০০
ইংরেজি ২০০
বাংলাদেশ বিষয়াবলী ২০০
আর্ন্তজাতিক বিষয়াবলী ১০০
গাণিতিক যুক্তি ও মানসিক দক্ষতা ১০০
পদ-সংশ্লিষ্ট বিষয় ২০০
মোট নম্বর ৯০০
সাধারণ ক্যাডারে যেখানে বাংলায় ২০০ থাকে সেখানে কারিগরি ক্যাডারে বাংলা বিষয়ে ১০০ নম্বর থাকে। আবার সাধারণ ক্যাডারে সাধারণ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ে ১০০ নম্বর থাকলেও কারিগরি বা পেশাগত ক্যাডারে এই বিষয় নেই।
একজন প্রার্থী চাইলে সাধারণ এবং কারিগরি ২ ক্যাডারেই আবেদন করতে পারবেন। সেক্ষেত্রে লিখিত পরীক্ষায় সাধারণ ক্যাডারের ৯০০ নম্বরসহ পদ সংশ্লিষ্ট ২০০ নম্বরের বিসিএস প্রশ্ন আন্সার করতে হবে।
যেমনঃ একজন ডাক্তার যদি উভয় ক্যাডারে আবেদন করেন তাহলে উনি সাধারণ ক্যাডারের নির্ধারিত ৯০০ নম্বর এবং ২০০ নম্বরের মেডিকেল বিষয়ের উপর পরীক্ষা দিবেন। অর্থাৎ মোট ১১০০ নম্বরের পরীক্ষা দিবেন। উভয়ক্ষেত্রে পাশ মার্ক হলো ৫০%।
তৃতীয় ধাপঃ ভাইভা পরীক্ষা।
বিসিএস লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণদের ২০০ নম্বরের মৌখিক পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে হয়। মৌখিক পরীক্ষার গড়পাস নম্বর ৫০%।
বিসিএস ভাইভা বোর্ড কিভাবে গঠন করা হয়?
প্রার্থীদের উপযুক্ততা নির্ধারণের জন্য বিসিএস পরীক্ষা বিধিমালা (২০১৪) অনুযায়ী BPSC নিম্নোক্তভাবে মৌখিক পরীক্ষার বোর্ড গঠন করে থাকে-
১.কমিশনের চেয়ারম্যান/সদস্য-বোর্ড চেয়ারম্যান।
২.সরকার কর্তৃক মনোনীত যুগ্মসচিব বা তদূর্ধ্ব পদমর্যাদার কর্মকর্তা-বোর্ড সদস্য।
৩.কমিশন কর্তৃক মনোনীত বিষয়ভিত্তিক বিশেষজ্ঞ-বোর্ড সদস্য।
এই তিন সদস্যের এক বা একাধিক সদস্য নিয়ে ভাইভা বোর্ড গঠন করা হয়। সাধারণ ১৫টি বোর্ড গঠন করা হয়।
লিখিত ও ভাইবা পরীক্ষায় প্রাপ্ত নম্বরের উপর ভিত্তি করে বিপিএসসি একজন প্রার্থীকে ক্যাডারে সুপারিশ করে।
চূড়ান্ত ভাবে নিয়োগ পাওয়ার আগে প্রত্যেক ক্যাডারের স্বাস্থ্য পরীক্ষা, পুলিশ ভেরিফিকেশন এবং এনএসআই (জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা) ভেরিফিকেশন করা হয়। এই ৩ টি পরীক্ষায় উতরে গেলে ক্যাডাররা গেজেটেড ভুক্ত হন।
বিসিএসে যাঁরা ক্যাডার সার্ভিসের জন্য সুপারিশপ্রাপ্ত হোন না, তাঁদের অনেকেই নন-ক্যাডার হিসেবে চাকরির সুযোগ দেয়া হয়।বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশন (বিপিএসসি) দুই ধরনের নিয়োগ প্রদান করে থাকে—
১. বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে ক্যাডার সার্ভিসের চাকরি (মোট ১৫০০ নম্বরের পরীক্ষা),
২. অন্যান্য বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে নন-ক্যাডারে নিয়োগ (মোট ৪০০ নম্বরের পরীক্ষা)।
বিসিএস উত্তীর্ণ কিন্তু ক্যাডারে সুপারিশপ্রাপ্ত নন, এমন প্রার্থীদের নন-ক্যাডার নিয়োগ বিধিমালা-২০১০ ও সংশোধিত বিধিমালা (২০১৪) অনুযায়ী নন-ক্যাডারে প্রথম শ্রেণি ও দ্বিতীয় শ্রেণির চাকরিতে সুপারিশ করা হচ্ছে। এতে বিসিএস উত্তীর্ণ মেধাবীরা ক্যাডার না পেলেও নন-ক্যাডারের চাকরিতে নিয়োগ পাচ্ছেন।
বিসিএস উত্তীর্ণ কিন্তু ক্যাডারে সুপারিশপ্রাপ্ত নন, এমন প্রার্থীদের দুই ধরনের নন-ক্যাডারে চাকরি দেওয়া হয়।
১. জেনারেল (এই চাকরিগুলোতে সব ডিসিপ্লিনের প্রার্থীদের নিয়োগ দেওয়া হয়)।
২. টেকনিক্যাল (চাকরির পদসংশ্লিষ্ট শিক্ষাগত যোগ্যতা থাকা প্রার্থীদের নিয়োগ দেওয়া হয়)।
বিসিএস নিয়ে আরো বিস্তারিত জানতে চাইলে আমাদের সাথে ফেসবুক পেজ Hello BCS এ যোগাযোগ করতে পারবেন। তাছারা আপনি Hello BCS অ্যাপ বাবহার করে বিসিএস ও অন্যান্য চাকরির সকল প্রস্তুতি নিতে সহায়ক ভূমিকা পালন করবে।
বিসিএস ক্যাডার চয়েস কিভাবে করবেন? (BCS Cadre List & BCS Cadre Choice)
বিসিএসে আবেদন করার সময় ক্যাডার চয়েসে অনেক সমস্যা হয়। প্রার্থীরা বুঝেন না কোন ক্যাডার প্রথমে দিবেন। কেনই বা সেটা প্রথমে দিবেন। বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিসে মোট ২৭টি ক্যাডার আছে। কে কোন ক্যাডারে যেতে চান, তার উপর ভিত্তি করে আবেদনের সময়ই প্রত্যেক প্রার্থীকে ক্যাডার চয়েস(Cadre Choice) দিতে হয়। ক্যাডার চয়েস মোতাবেক ভাইভা বোর্ডে প্রশ্ন করেন পরীক্ষকরা।
ধরুন, আপনি প্রথম চয়েস দিলেন- পররাষ্ট্র ক্যাডার। তাহলে ভাইভা বোর্ডে আপনাকে পররাষ্ট্র বা কূটনৈতিক বিষয় নিয়ে জিজ্ঞাসা করা হবে। তাই যেই ক্যাডারে আপনি যেতে ইচ্ছুক এবং যেই ক্যাডার সম্পর্কিত আপনার পড়াশুনা আছে, সেই ক্যাডারকে চয়েস লিস্টে প্রথমে দেয়া শ্রেয়।
অনেকেই বিশেষ করে যারা প্রথমবার বিসিএস দিবেন, তারা বিসিএসের ক্যাডারগুলোর কাজের ধরণ ,চাকরিতে সুযোগ সুবিধা ,চাকরির অসুবিধা গুলো জানেন না।
প্রথমেই ২৭টি বিসিএস ক্যাডারের নাম জানা যাক।
| ক্রমিক(Serial) | ক্যাডারের নাম (Cadre Name) | ক্যাডারের ধরণ (Cadre Type) |
| ১. | বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিস (প্রশাসন) | সাধারণ ক্যাডার |
| ২. | বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিস (কৃষি) | কারিগরি/পেশাগত ক্যাডার |
| ৩. | বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিস (আনসার) | সাধারণ ক্যাডার |
| ৪. | বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিস (নিরীক্ষা ও হিসাব) | সাধারণ ক্যাডার |
| ৫. | বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিস (সমবায়) | সাধারণ ক্যাডার |
| ৬. | বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিস (শুল্ক ও আবগারি) | সাধারণ ক্যাডার |
| ৭. | বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিস (ইকনমিক) | সাধারণ ক্যাডার |
| ৮. | বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিস (পরিবার পরিকল্পনা) | সাধারণ ক্যাডার |
| ৯. | বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিস (মৎস্য) | কারিগরি/পেশাগত ক্যাডার |
| ১০. | বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিস (খাদ্য) | সাধারণ এবং কারিগরি/পেশাগত ক্যাডার |
| ১১. | বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিস (পররাষ্ট্র) | সাধারণ ক্যাডার |
| ১২. | বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিস (বন) | কারিগরি/পেশাগত ক্যাডার |
| ১৩. | বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিস (সাধারণ শিক্ষা) | কারিগরি/পেশাগত ক্যাডার |
| ১৪. | বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিস (স্বাস্থ্য) | কারিগরি/পেশাগত ক্যাডার |
| ১৫. | বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিস (তথ্য) | সাধারণ এবং কারিগরি/পেশাগত ক্যাডার |
| ১৬. | বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিস (পশু সম্পদ) | সাধারণ এবং কারিগরি/পেশাগত ক্যাডার |
| ১৭. | বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিস (পুলিশ) | সাধারণ ক্যাডার |
| ১৮. | বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিস (ডাক) | সাধারণ ক্যাডার |
| ১৯. | বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিস (জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল) | কারিগরি/পেশাগত ক্যাডার |
| ২০. | বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিস (গণপূর্ত) | কারিগরি/পেশাগত ক্যাডার |
| ২১. | বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিস (রেলওয়ে প্রকৌশল) | কারিগরি/পেশাগত ক্যাডার |
| ২২. | বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিস (রেলওয়ে পরিবহন ও বাণিজ্যিক) | সাধারণ এবং কারিগরি/পেশাগত ক্যাডার |
| ২৩. | বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিস (সড়ক ও জনপথ) | কারিগরি/পেশাগত ক্যাডার |
| ২৪. | বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিস (পরিসংখ্যান) | কারিগরি/পেশাগত ক্যাডার |
| ২৫. | বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিস (কর) | সাধারণ ক্যাডার |
| ২৬. | বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিস (কারিগরি শিক্ষা) | কারিগরি/পেশাগত ক্যাডার |
| ২৭. | বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিস (বাণিজ্য) | সাধারণ এবং কারিগরি/পেশাগত ক্যাডার |
চাকরির ধরন
সুযোগ-সুবিধা
অসুবিধা ও সীমাবদ্ধতা নিয়ে আলোচনা করব।
বিসিএস এ অংশ নেয়া সব প্রার্থীদের ক্যাডার চয়েস নিয়ে একটি গবেষণা করা হয়েছিল।
গবেষণায়প্রাপ্ত পছন্দক্রমঃ (BCS Cadre Choice)
১। পররাষ্ট্র
২। পুলিশ
৩। প্রশাসন
৪। শুল্ক ও আবগারি
৫। কর
৬। নিরীক্ষা ও হিসাব
৭। বাণিজ্য
৮। খাদ্য
৯। রেলওয়ে পরিবহন ও বাণিজ্যিক
১০। আনসার
১১। তথ্য
১২। ডাক
১৩। সমবায়
১৪। পরিবার পরিকল্পনা
বিসিএস সিলেবাস ও মানবন্টন (প্রিলিমিনারি, লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষার বিস্তারিত সিলেবাস)
বিসিএস প্রিলিমিনারির সিলেবাস
| বিষয় | পূর্ণমান |
|---|---|
| বাংলা ভাষা ও সাহিত্য + ব্যাকরণ | 35 |
| ইংরেজি ভাষা, সাহিত্য + ব্যাকরণ | 35 |
| বাংলাদেশ বিষয়াবলি | 30 |
| আর্ন্তজাতিক বিষয়াবলি | 20 |
| গাণিতিক যুক্তি | 15 |
| মানসিক দক্ষতা | 15 |
| কম্পিউটার ও তথ্য প্রযুক্তি | 15 |
| সাধারণ বিজ্ঞান | 15 |
| দূযোগ ব্যবস্থাপনা ও বাংলাদেশ | 10 |
| নৈতিকতা ও সুশাসন | 10 |
| মোট | 200 |
বিসিএস লিখিত এর সিলেবাস
| বিষয় | পূর্ণমান |
|---|---|
| বাংলা ভাষা ও সাহিত্য + ব্যাকরণ | 200 |
| ইংরেজি ভাষা, সাহিত্য + ব্যাকরণ | 200 |
| বাংলাদেশ বিষয়াবলি | 200 |
| আর্ন্তজাতিক বিষয়াবলি | 100 |
| গাণিতিক যুক্তি | 50 |
| মানসিক দক্ষতা | 50 |
| সাধারণ বিজ্ঞান | 100 |
| অর্থনীতি | 200 |
| মোট | 1100 |
এতে সদস্যতা:
পোস্টগুলি (Atom)