মধ্যযুগের শ্রেণীবিভাগ
চৈতন্যদেবের (বা চৈতন্য মহাপ্রভু) জীবনীর ভিত্তিতে মধ্যযুগকে তিন ভাগে ভাগ করা যায়। যথা-
- প্রাকচৈতন্য যুগ (১২০১-১৫০০ খ্রি.)
- চৈতন্য যুগ ( ১৫০১ – ১৬০০ খ্রি.)
- চৈতন্য পরবর্তী যুগ (১৬০১ – ১৮০০ খ্রি.)
মুসলিম শাসনামলের ভিত্তিতে মধ্যযুগকে ৩ অংশে ভাগ করা যায়। যথা-
- তুর্কি যুগ (১২০১-১৩৫০ খ্রি.)
- সুলতানি যুগ (১৩৫১-১৫৭৫ খ্রি.)
- মোঘল যুগ (১৫৭৬-১৭৫৭ খ্রি.)
তবে সাধারণভাবে মধ্যযুগকে নিম্নোক্ত তিন ভাগে ভাগ করা যায়-
- আদি-মধ্যযুগ (১২০০-১৩৫০) বা অন্ধকার যুগ
- মধ্য-মধ্যযুগ (১৩৫০-১৭০০) এবং
- অন্ত্য-মধ্যযুগ (১৭০০-১৮০০)
একনজরে বিভিন্ন সাহিত্যধারার উল্লেখযোগ্য কবি/লেখক
| ধারা | কবি/লেখক |
|---|---|
| বৈষ্ণব পদাবলি | বিদ্যাপতি, চণ্ডীদাস, জ্ঞানদাস, গোবিন্দদাস, বলরাম দাস, জয়দেব (সংস্কৃত) প্রমূখ। |
| জীবনী সাহিত্য | শ্রীচৈতন্যদেবের জীবনী: মুরারিগুপ্ত, কৃষ্ণদাস কবিরাজ, বৃন্দাবন দাস, লোচন দাস প্রমূখ। অন্যন্য জীবনী: সৈয়দ সুলতান, হরকৃষ্ণ দাস, ঈশান নাগর, হরিচরণ দাস। |
| মঙ্গলকাব্য | মানসামঙ্গল: কানাহরি দত্ত, বিজয়গুপ্ত, বিপ্রদাস পিপলাই, ক্ষেমানন্দ, দ্বিজ বংশীদাস প্রমূখ। চণ্ডীমঙ্গল: মানিক দত্ত, মুকুন্দরাম চক্রবর্তী, দ্বিজমাধব বা মাধব আচার্য (স্বভাব কবি), দ্বিজ রামদেব, মুক্তারাম সেন, হরিরাম, ভবানীশঙ্কর দাস, অকিঞ্চন চক্রবর্তী প্রমুখ। ধর্মমঙ্গল: ময়ূর ভট্ট, শ্রী শ্যাম পণ্ডিত, ঘনরাম চক্রবর্তী, খেলারাম চক্রবর্তী, সীতারাম দাস প্রমূখ। কালিকামঙ্গল: সবিরিদ খান, রামপ্রসাদ সেন প্রমূখ। শিবমঙ্গল: রামকৃষ্ণ রায়, দ্বিজ রতিদেব, রামেশ্বর ভট্টাচার্য প্রমূখ। অন্নদামঙ্গল: ভরতচন্দ্র রায় গুনাকর। |
| নাথ সাহিত্য | শেখ ফয়জুল্লাহ, শুকুর মুহাম্মাদ, ভীমসেন, শ্যামদাস সেন, ভবানীদাস প্রমূখ। |
| মর্সিয়া সাহিত্য | শেখ ফয়জুল্লাহ, দৌলত উজির বাহরাম খান, গরীবুল্লাহ, মুহাম্মাদ খান, হায়াত মামুদ, মীর মোশাররফ হোসেন, কায়কোবাদ, রাধারমণ গোপ প্রমূখ। |
| লোকসাহিত্য | নাথ গীতিকা: শুকুর মুহাম্মদ, ভবানীদাস প্রমূখ। মৈমনসিংহ গীতিকা: মনসুর বায়তি, দ্বিজ কানাই, চন্দ্রাবতী, দ্বিজ ঈশান, নয়ানচাঁদ ঘোষ প্রমূখ। লোককথা: দক্ষিণারঞ্জন মিত্র, উপেন্দ্রকিশোর রায় চৌধুরি প্রমূখ। |
| অনুবাদ সাহিত্য | কবীন্দ্র পরমেশ্বর, কাশিরাম দাস, কৃত্তিবাস ওঝা, মালাধর বসু প্রমুখ। |
| রোমান্টিক প্রণয়োপাখ্যান | শাহ মুহম্মদ সগীর, আব্দুল হাকিম, ফকির গরীবুল্লাহ, দৌলত উজির বাহরাম খান, দৌলত কাজী প্রমূখ। |