ব্রেকিং নিউজ:

বিসিএস সার্কুলার প্রকাশিত হয়েছে। সংবিধান বিষয়ে প্রস্তুতিকে মজবুত করতে শীঘ্রই কোর্স চালু হতে যাচ্ছে। বিসিএস সার্কুলার প্রকাশিত হয়েছে। সংবিধান বিষয়ে প্রস্তুতিকে মজবুত করতে শীঘ্রই কোর্স চালু হতে যাচ্ছে।

নোটিশ

বিজ্ঞপ্তি

বিষয়ভিত্তিক প্রস্তুতিকে আরো সহজতর করে তুলতে বিসিএস জানালা প্রতিনিয়ত বিভিন্ন কোর্স ডেভোলপ করে যাচ্ছে। আশাকরি আমাদের পরিশ্রম শিক্ষার্থীদের প্...

১৪.২.২২

বাংলা ভাষা

 মানুষের ভাব প্রকাশের প্রধান মাধ্যম হচ্ছে ভাষা। দেশ, কাল ও পরিবেশভেদে ভাষার পার্থক্য ও পরিবর্তন ঘটে থাকে। বর্তমান পৃথিবীতে প্রায় ৩৫০০ ভাষা প্রচলিত রয়েছে।

মুখে উচ্চারিত অর্থবোধক ও মনোভাব প্রকাশক ধ্বনিসমষ্টিকে ভাষা বলে।

প্রত্যেক ভাষার ৪টি (মতান্তরে ৩টি) মৌলিক অংশ থাকে। যথা: ধ্বনি, শব্দ, অর্থ ও বাক্য। 

ভাষার মূল উপাদান ধ্বনি। বাকযন্ত্রের সাহায্য ধ্বনির সৃষ্টি হয়। কিন্তু ভাষার মৌলিক উপাদান হচ্ছে শব্দ। কারণ ভাষার প্রধান উদ্দেশ্য হচ্ছে অর্থবাচকতা প্রকাশ করা। ধ্বনিগুলো অর্থ প্রকাশ নাও করতে পারে (যেমন- শিশুর মুখের ধ্বনি); কিন্তু শব্দের সাথে অর্থের সংশ্লিষ্টতা দেখা যায়। আবার একাধিক শব্দের উপযুক্ত সমন্নয়ে বাক্য গঠিত হয়। একটি সম্পূর্ণ বাক্যই ভাষার প্রাণ। বাক্যকে ভাষার মূল উপকরণ বলা হয়।

ভাষার মূল উপাদান / ভাষার বাহন বা স্বর বা ক্ষুদ্রতম এককধ্বনি
শব্দের মূল উপাদান / মূল উপকরণ / ক্ষুদ্রতম এককধ্বনি
ভাষার মূল উপকরণ / ভাষার ছাদ / ভাষার বৃহত্তম এককবাক্য
বাক্যের মূল উপাদান / উপকরণ বা মৌলিক উপাদান / উপকরণ বা মূল একক / ক্ষুদ্রতম এককশব্দ
শব্দের গঠনগত একক / ভাষার ইটবর্ণ
বাক প্রতঙ্গজাত ধ্বনির ক্ষুদ্রতম একক বা মৌলিক অংশধ্বনিমূল

ভাষা পরিবার

ভাষা পরিবার বলতে বংশগতভাবে সম্পর্কিত একাধিক ভাষাকে বোঝায়। একই পরিবারভুক্ত ভাষাগুলো একটি সাধারণ আদিভাষা থেকে উদ্ভুত হয়েছে বলে মনে করা হয়। পৃথিবীতে ১০০টিরও বেশি ভাষা পরিবার আছে। উপমহাদেশের ভাষাগুলোর ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য দুটি ভাষা পরিবার হল: ইন্দো-ইউরোপীয় ভাষা পরিবার ও দ্রাবিড় ভাষা পরিবার

ইন্দো-ইউরোপীয় ভাষা পরিবারের অন্তর্গত ভাষাগুলো হল: ইংরেজী, উর্দু, সিন্ধি, হিন্দি, গুজরাটি, পাঞ্জাবি, মারাঠি, বাংলা, ওড়িয়া, অসমিয়া, ভোজপুরি ইত্যাদি।

দ্রাবিড় ভাষা পরিবারের অন্তর্গত ভাষাগুলো হল: তামিল, তেলেগু, কন্নড় ও মালয়ালয়।

বাংলা ভাষা

বাংলা ভাষা একটি ইন্দো-আর্য ভাষা। এটি দক্ষিণ এশিয়ার বাঙালি জাতির প্রধান কথ্য ও লেখ্য ভাষা। মোট ব্যবহারকারীর সংখ্যা অনুসারে বাংলা বিশ্বের চতুর্থ বৃহত্তম মাতৃভাষা।

বাংলা ভাষা বাংলাদেশের রাষ্ট্রভাষা তথা সরকারি ভাষা। এছাড়াও এটি ভারতের পশ্চিমবঙ্গ, ত্রিপুরা, আসামের বরাক উপত্যকার সরকারি ভাষা। বঙ্গোপসাগরে অবস্থিত আন্দামান দ্বীপপুঞ্জের প্রধান কথ্য ভাষাও বাংলা। এছাড়া ভারতের ঝাড়খণ্ড, বিহার, মেঘালয়, মিজোরাম, উড়িষ্যা রাজ্যগুলোতে উল্লেখযোগ্য সংখ্যায় বাংলাভাষী মানুষ রয়েছে। ভারতে হিন্দির পরেই সর্বাধিক প্রচলিত ভাষা বাংলা। সারা বিশ্বে প্রায় ৩০ কোটি মানুষ তাদের দৈনন্দিন জীবনে বাংলা ভাষা ব্যবহার করে। বাংলাদেশের জাতীয় সঙ্গীত এবং ভারতের জাতীয় সঙ্গীত ও স্তোত্র বাংলায় রচিত।

বাংলা ভাষার আদি উৎস ইন্দো-ইউরোপীয় ভাষা। মধ্য এশিয়ার পশ্চিম এবং ইউরোপের মধ্যভাগ থেকে দক্ষিণ-পূর্ব ভূখণ্ডের মধ্যে যে জাতি বসবাস করত তাদের ভাষার নাম ছিল ইন্দো-ইউরোপীয় ভাষা। ইন্দো-ইউরোপীয় ভাষার শাখা ২টি। যথা: কেন্তম ও শতম। ইন্দো-ইউরোপীয় ভাষাগোষ্ঠীর মধ্যে আলবেনীয় ও বাল্টোস্লাভনীয় ছাড়া বাকিগুলো কেন্তমের শাখাভুক্ত। কেন্তমের এশিয়ার অন্তর্গত দুটি শাখা হল হিরিক ও তুখারিক। শতম শাখাভুক্ত ভাষাভাষীদের একটি গোষ্ঠী দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দিকে চলে আসে (তারা আর্য নামে পরিচিত)। এই শতম থেকেই বাংলা ভাষার উৎপত্তি হয়েছে।

বাংলা ভাষার ধারাবাহিক রূপ
শতম > প্রাচীন ভারতীয় আর্য ভাষা > প্রাচীন ভারতীয় (কথ্য রূপ, সাহিত্য রূপ) > প্রাচীন প্রাচ্য প্রাকৃত > মাগধী / গৌড়ীয় প্রাকৃত >  মাগধী গৌড়ীয় অপভ্রংশ > বাংলা

ড. মুহাম্মাদ শহীদুল্লার মতে বাংলা ভাষার উৎপত্তি হয়েছে ৭ম শতাব্দীতে, গৌড়ীয় প্রাকৃত থেকে। অপরদিকে ড. সুনীতি কুমার চট্টপাধ্যায়ের মতে বাংলা ভাষার উৎপত্তি হয়েছে ১০ম শতাব্দীতে, মাগধী প্রাকৃত থেকে।

বাংলা লিপি

লিপি হল লিখন পদ্ধতি। পৃথিবীর সকল লিপি ফিনিসিয় লিপি থেকে উদ্ভূত হয়েছে। প্রাচীন ভারতীয় লিপি ২টি: ব্রাহ্মী লিপি ও খরোষ্ঠী লিপি। বাংলা লিপির উদ্ভব হয়েছে ব্রাহ্মী লিপি থেকে। অন্যদিকে উর্দু ও ফরাসি লিপির উদ্ভব হয়েছে খরোষ্ঠী লিপি থেকে।

মহাস্থানগড় থেকে মৌর্য সম্রাট অশোকের শাসনামলে লিখিত ব্রাহ্মীলিপি পাওয়া গেছে। ধারণা করা হয় বাংলা লিপির প্রসার ঘটেছিল পাল শাসনামলে। সেন শাসনামলে লিপি গঠন কাজ শুরু হয়। এরপর পাঠান যুগে বাংলা লিপি সাময়িক স্থায়িত্ব লাভ করেছিল।

বাংলা ছাড়াও বাংলা লিপি ব্যবহৃত হয় মণিপুরী, ককবরক ও অসমীয়া ভাষায়‌। এ লিপির গঠন তুলনামূলকভাবে কম আয়তাকার ও বেশি সর্পিল। বাংলা লিপি সিদ্ধং লিপি থেকে উদ্ভূত হয়েছে বলে মনে করা হয়। বর্তমানে বাংলা লিপি বিশ্বের ৬ষ্ঠ সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত লিখন পদ্ধতি।

বাংলা লিপির বিবর্তন
ব্রাহ্মী লিপি > কুষাণ লিপি > গুপ্ত লিপি > সিদ্ধমাতৃকা (সিদ্ধং – জাপানি) লিপি > বাংলা লিপি 

বাংলা ভাষারীতি (শ্রেণীবিভাগ)

বাংলা ভাষার মৌলিক রূপ দুইটি। যথা:

  • মৌখিক বা কথ্য (চলিত ও আঞ্চলিক বা উপভাষা)
  • লৈখিক বা লেখ্য (সাধু ও চলিত)

সাধু রীতি

প্রাচীনকাল থেকে সাহিত্যের ভাষা হিসেবে সাধুভাষা ব্যবহৃত হয়ে এসেছে। সংস্কৃত ভাষা থেকে উৎপন্ন ভাষাকে সাধু ভাষা হিসেবে অভিহিত করা হয়। প্রথম দিকের বাংলা গদ্যে সাধুরীতির ব্যাপক প্রচলন ছিল। রাজা রামমোহন রায় সাহিত্যে প্রথম সাধু ভাষার প্রয়োগ করেন। সাধু ভাষার কিছু বৈশিষ্ট্য-

  • নির্দিষ্ট নিয়ম অনুসরণ করে
  • পদবিন্যাস সুনিয়ন্ত্রিত
  • গুরুগম্ভীর
  • তৎসম শব্দবহুল
  • সর্বনাম ও ক্রিয়াপদ এক বিশেষ গঠন পদ্ধতি মেনে চলে
  • সর্বনাম, ক্রিয়া ও অনুসর্গের পূর্ণরূপ ব্যবহার করা হয়
  • সাধুরীতি নাটকের সংলাপ ও বক্তৃতার অনুপযোগী

চলিত রীতি

সাধারণ মানুষের মুখের ভাষাকে চলিত ভাষা বলা হয়। ভাষার এ রীতি নিয়ত পরিবর্তনশীল। অঞ্চলভেদে মানুষের মুখের ভাষায় (চলিত রীতিতে) উল্লেখযোগ্য পার্থক্য দেখা যায়। বিভিন্ন ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র অঞ্চলের জনগণ নিজ নিজ অঞ্চলের ভাষায় কথা বলে। এগুলোকে আঞ্চলিক কথ্য ভাষা বা উপভাষা বলে। পৃথিবীর সব ভাষারই উপভাষা রয়েছে। বাংলা ভাষার উপভাষা ৫টি। যথা: রাঢ়িঝাড়খন্ডিবরেন্দ্রিবঙ্গালি ও কামরূপি। এক অঞ্চলের মানুষের ভাষার সাথে অন্য অঞ্চলের মানুষের ভাষায় পার্থক্যের জন্য পণ্ডিতগণ একটি আদর্শ ভাষা ব্যবহার করেন। এ ভাষাই আদর্শ চলিত ভাষা বা প্রমিত ভাষা। অর্থ্যাৎ চলিতভাষার আদর্শরূপই হল প্রমিত ভাষা। চলিত ভাষার কিছু বৈশিষ্ট্য-

  • পরিবর্তনশীল
  • তদ্ভব শব্দবহুল
  • নাটকের সংলাপ ও বক্তৃতার উপযোগী
  • সর্বনাম ও ক্রিয়াপদ- এর গঠন সহজরূপ লাভ করে
  • সর্বনাম, ক্রিয়া ও অনুসর্গের সংক্ষিপ্তরূপ ব্যবহার করা হয়

বাংলা গদ্যে চলিতরীতির প্রবর্তন করেছিলেন প্রমথ চৌধুরি। তিনি সবুজপত্র (১৯১৪) পত্রিকার মাধ্যমে বাংলা সাহিত্যে চলিতরীতি প্রবর্তনের জন্য সংগ্রাম করেন।

উল্লেখ্য বাংলা উপভাষার শ্রেণীবিভাগে অবদান রেখেছেন ব্রিটিশ রাজ্যের উচ্চপদস্থ আমলা জর্জ আব্রাহাম গ্রিয়ারসন। তিনি ১৮৭৩ সালে প্রকাশিত তার ‘লিংগুয়েস্টিক সার্ভে অব ইন্ডিয়া’ গ্রন্থে বাংলা উপভাষার বিভিন্ন নমুনা তুলে ধরেন।

বিভিন্ন শব্দের সাধু ও চলিত রীতি:-

সাধুচলিত
মস্তকমাথা
জুতাজুতো
তুলাতুলো
জোসনাজোছনা
সর্পসাপ
সুতাসুতো
হস্তহাত
শুষ্ক / শুকনাশুকনো
বন্যবুনো
কিয়াক্ষণকিছুক্ষণ
রঙ্গিনরঙিন
সাতিশয়অত্যন্ত
তহারা / উহারাতারা / ওঁরা
অপেক্ষাচেয়ে
পূর্বেইআগেই
করিলকরল
পাইয়াছিলেনপেয়েছিলেন
করিয়াকরে


সমাস

1.

2.

3.

4.

5.

6. 7.

8.

9.

10.

11.

12.

বানান শুদ্ধিকরণ ও বাক্য শুদ্ধিকরণ






বাক্য শুদ্ধিকরণ
১।অশুদ্ধ ঃ তিনি আরোগ্য হইয়াছেন। 
শুদ্ধ ঃ তিনি আরোগ্য লাভ করেছেন। 
২।অশুদ্ধ ঃ তিনি স্বস্ত্রীক কুমিল্লা বাস করেন। 
শুদ্ধ ঃ তিনি সস্ত্রীক কুমিল্লায় বাস করেন। 
৩।অশুদ্ধ ঃ ইহার আবশ্যক নাই। 
শুদ্ধ ঃ এর আবশ্যকতা নেই। অথবা, ইহার আবশ্যকতা নাই। 
৪।অশুদ্ধ ঃ অনাবশ্যকীয় ব্যাপারে কৌতূহল ভাল নয়। 
শুদ্ধ ঃ অনাবশ্যক ব্যাপারে কৌতূহল ভাল নয়। 
৫।অশুদ্ধ ঃ সে সভায় উপস্থিত ছিলেন। 
শুদ্ধ ঃ তিনি সভায় উপস্থিত ছিলেন। অথবা, সে সভায় উপস্থিত ছিল। 
৬।অশুদ্ধ ঃ অন্যান্য বিষয়গুলোর আলোচনা পড়ে হবে। 
শুদ্ধ ঃ অন্যান্য বিষয়ের আলোচনা পড়ে হবে। অথবা,অন্য বিষয়গুলোর আলোচনা পড়ে হবে। 
৭।অশুদ্ধ ঃ নূতন নূতন ছেলেগুলো বড় উৎপাত করিতেছে। 
শুদ্ধ ঃ নতুন নতুন ছেলে বড় উৎপাত করছে। অথবা, নতুন ছেলেগুলো বড় উৎপাত করছে।
৮।অশুদ্ধ ঃ অঙ্ক কষিতে ভূল করিও না। 
শুদ্ধ ঃ অঙ্ক ভুল করো না। 
৯।অশুদ্ধ ঃ তিনি তোমার বিরুদ্ধে সাক্ষী দিলেন। 
শুদ্ধ ঃ তিনি তোমার বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিলেন। 
১০।অশুদ্ধ ঃ সে তাহার শিক্ষকের একান্ত বাধ্যগত ছাত্র। 
শুদ্ধ ঃ সে তার শিক্ষকের একান্ত বাধ্য ছাত্র। 
১১।অশুদ্ধ ঃ সৎ চরিত্রবান লোক সকলের প্রিয়। 
শুদ্ধ ঃ সৎ চরিত্রের লোক সকলের প্রিয়। অথবা, চরিত্রবান লোক সকলের প্রিয়। 
১২।অশুদ্ধ ঃ বাংলাদেশ একটি উন্নতশীল দেশ। 
শুদ্ধ ঃ বাংলাদেশ একটি উন্নয়নশীল দেশ। 
১৩।অশুদ্ধ ঃ ধৈর্যতা, সহিষ্ণুতা মহত্বের লক্ষণ। 
শুদ্ধ ঃ ধৈর্য, সহিষ্ণুতা মহত্ত্বের লক্ষণ। 
১৪।অশুদ্ধ ঃ পরপকার মনুষ্যত্বেরই পরিচায়ক। 
শূদ্ধ ঃ পরোপকার মনুষ্যত্বের পরিচায়ক। 
১৫।অশুদ্ধ ঃ আপনি আমার স্বপক্ষে না বিপক্ষে ?
শুদ্ধ ঃ আপনি আমার পক্ষে না বিপক্ষে? অথবা, আপনি সপক্ষে না বিপক্ষে ?
১৬।অশুদ্ধ ঃ তাঁহার সবিনীত ব্যবহারে সবাই সন্তুষ্ট। 
শুদ্ধ ঃ তাঁর বিনীত ব্যবহারে সবাই সন্তুষ্ট। 
১৭।অশুদ্ধ ঃ তিনি উদ্ধতপূর্ণ আচরণ করেছেন। 
শুদ্ধ ঃ তিনি ঔদ্ধত্যপূর্ণ (বা উদ্ধত) আচরণ করেছেন। 
১৮।অশুদ্ধ ঃ আমি ও আমার চাচা ঢাকায় গেছেন। 
শুদ্ধ ঃ আমার চাচা ও আমি ঢাকায় গিয়েছি। 
১৯।অশুদ্ধ ঃ মাতাহীন শিশুর কী দুঃখ। 
শুদ্ধ ঃ মাতৃহীন শিশুর কী দুঃখ। 
২০।অশুদ্ধ ঃ বিদ্যান মুর্খ অপেক্ষা শ্রেষ্ঠতর। 
শুদ্ধ ঃ বিদ্বান মূর্খ অপেক্ষা শ্রেষ্ঠ। 
২১।অশুদ্ধ ঃ আকণ্ঠ পর্যন্ত ভোজনে স্বাস্থ্যহানি ঘটে। 
শুদ্ধ ঃ আকণ্ঠ ভোজনে স্বাস্থ্যহানি ঘটে। 
২২।অশুদ্ধ ঃ কীর্তিবাস বাংলা রামায়ন লিখিয়াছেন। 
শুদ্ধ ঃ কৃত্তিবাস বাংলা রামায়ণ লিখেছেন। 
২৩।অশুদ্ধ ঃ তাহার বৈমাত্রেয় সহোদর অসুস্থ। 
শুদ্ধ ঃ তার বৈমাত্র ভাই অসুস্থ। অথবা, তাহার বৈমাত্রেয় ভ্রাতা অসুস্থ। 
২৪।অশুদ্ধ ঃ অন্ন্যাভাবে প্রতি ঘরে ঘরে হাহাকার। 
শুদ্ধ ঃ অন্নাভাবে প্রতি ঘরে হাহাকার। অথবা, অন্নাভাবে ঘরে ঘরে হাহাকার। 
২৫।অশুদ্ধ ঃ আমি এই ঘটনা চাক্ষুষ প্রত্যক্ষ করিয়াছি। 
শুদ্ধ ঃ আমি এই ঘটনা প্রত্যক্ষ করেছি। অথবা, আমি এই ঘটনা চাক্ষুস দেখেছি। 
২৬।অশুদ্ধ ঃ সবিনয়পূর্বক নিবেদন এই যে। 
শুদ্ধ ঃ সবিনয় নিবেদন এই যে। অথবা, বিনয়পূর্বক নিবেদন এই যে। 
২৭।অশুদ্ধ ঃ শরীর অসুস্থের জন্য আমি কাল আসিতে পারি নাই। 
শুদ্ধ ঃ অসুস্থতার জন্য আমি কাল আসতে পারি নি। 
অথবা, ঃ শারীরিক অসুস্থতার জন্য আমি গতদিন আসিতে পারি নাই। 
২৮।অশুদ্ধ ঃ অভাবগ্রস্থ ছেলেটি তার দুরাবস্থার কথা সাশ্র“পূর্ণ নয়নে বর্ণনা করল। 
শুদ্ধ ঃ অভাবগ্রস্ত ছেলেটি তার দুরবস্থার কথা অশ্রুপূর্ণ নয়নে বর্ণনা করল। 
২৯।অশুদ্ধ ঃ মেয়েটি সুকেশিনী এবং সুহাসি। 
শুদ্ধ ঃ মেয়েটি সুকেশা এবং সুহাসিনী। 
৩০।অশুদ্ধ ঃ হীন চরিত্রবান লোক পশ্বাধম। 
শুদ্ধ ঃ চরিত্রহীন লোক পশ্বাধম। অথবা, হীন চরিত্রের লোক পশ্বাধম। 
৩১।অশুদ্ধ ঃ তুমি, করিম ও আমি আজ পড়িতে যাইব। 
শুদ্ধ ঃ করিম, তুমি ও আমি আজ পড়তে যাব। 
৩২।অশুদ্ধ ঃ দশচক্রে ঈশ্বর ভূত। 
শুদ্ধ ঃ দশচক্রে ভগবান ভূত। 
৩৩।অশুদ্ধ ঃ যেমন বুনো কচু তেমনি বাঘা তেঁতুল। 
শুদ্ধ ঃ যেমন বুনো ওল তেমনি বাঘা তেঁতুল। 
৩৪।অশুদ্ধ ঃ শশীভূষণ প্রাণীবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক। 
শুদ্ধ ঃ শশিভূষণ প্রাণিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক। 
৩৫।অশুদ্ধ ঃ সে পূর্বাহ্নে আসিয়া মধ্যাহ্ন কাটাইয়া অপরাহ্নের পর সায়াহ্নে চলিয়া গেল। 
শুদ্ধ ঃ সে পূর্বাহ্ণে এসে মধ্যাহ্ন কাটিয়ে অপরাহ্ণের পর সায়াহ্নে চলে গেল। 
৩৬।অশুদ্ধ ঃ বাজীকরের অদ্ভূত ক্রিয়া দেখিয়া ছাত্রগণেরা প্রফুল্ল¬ হল। 
শুদ্ধ ঃ বাজীকরের অদ্ভুত খেলা দেখে ছাত্ররা প্রফুল্ল¬ হল। 
অশুদ্ধ ঃ নিন্দুক ব্যাক্তি সকল দেশেই আছে। 
শুদ্ধ ঃ নিন্দক সকল দেশেই আছে। 
৩৭।অশুদ্ধ ঃ চোরটি বমালসুদ্ধ ধরা পড়েছে। 
শুদ্ধ ঃ চোরটি বমাল(বা মালসুদ্ধ) ধরা পড়েছে। 
৩৮।অশুদ্ধ ঃ বৃক্ষটি সমূলসহ উৎপাটিত হয়েছে। 
শুদ্ধ ঃ বৃক্ষটি সমূল/মূলসহ উৎপাটিত হয়েছে। 
৩৯।অশুদ্ধ ঃ সূর্য উদয় হয়েছে। 
শুদ্ধ ঃ সূর্য উদিত হয়েছে। অথবা, সূর্যের উদয় হয়েছে। 
৪০।অশুদ্ধ ঃ কালীদাস খ্যাতমান কবি। 
শুদ্ধ ঃ কালিদাস খ্যাতিমান কবি। 
৪১।অশুদ্ধ ঃ অতিলোভে তাতী নষ্ট। 
শুদ্ধ ঃ অতিলোভে তাঁতি নষ্ট। 
৪২।অশুদ্ধ ঃ তাহার সৌজন্যতায় মুগ্ধ হয়েছি। 
শুদ্ধ ঃ তার সৌজন্যে মুগ্ধ হয়েছি। 
৪৩।অশুদ্ধ ঃ বিশ্বে বাংলা ভাষাভাষীর সংখ্যা প্রায় পঁচিশ কোটি। 
শুদ্ধ ঃ বিশ্বে বাংলাভাষীর সংখ্যা প্রায় পঁচিশ কোটি। 
৪৪।অশুদ্ধ ঃ ব্যাপারটা আমার আয়ত্তাধীন নয়। 
শুদ্ধ ঃ ব্যাপারটা আমার আয়ত্ত (বা অধীন) নয়। 
৪৫।অশুদ্ধ ঃ সারা জীবন ভুতের মজুরি খেটে মরলাম। 
শুদ্ধ ঃ সারা জীবন ভূতের বেগার খেটে মরলাম। 
৪৬।অশুদ্ধ ঃ এই মহান মহিলার স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানাই। 
শুদ্ধ ঃ এই মহীয়সী মহিলার স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানাই। 
৪৭।অশুদ্ধ ঃ তিনি অদ্যাপিও নিরুদ্দেশ। 
শুদ্ধ ঃ তিনি অদ্যাপি নিরুদ্দেশ। 
৪৮।অশুদ্ধ ঃ অন্যায়ের প্রতিফল দুনিবার্য। 
শুদ্ধ ঃ অন্যায়ের প্রতিফল দুর্নিবার/অনিবার্য। 
৪৯।অশুদ্ধ ঃ আমার আর বাঁচিবার স্বাদ নাই। 
শুদ্ধ ঃ আমার আর বাঁচার সাধ নেই। অথবা, আমার আর বাঁচিবার সাধ নাই। 
৫০।অশুদ্ধ ঃ দারিদ্রতার মধ্যেই মহত্ত আছে। 
শুদ্ধ ঃ দারিদ্র্যের/দরিদ্রতার মধ্যেই মহত্ত্ব আছে। 
৫১।অশুদ্ধ ঃ আবশ্যকীয় ব্যায়ে কার্পণ্যতা অনুচিত। 
শুদ্ধ: আবশ্যক ব্যয়ে কার্পণ্য /কৃপণতা অনুচিত। 
৫২।অশুদ্ধ: ছেলেটি বংশের মাথায় চুন কালি দিল। 
শুদ্ধ ঃ ছেলেটি বংশের মুখে চুন কালি দিল।


১। অশুদ্ধবাক্য :এটা হচ্ছে ষষ্ঠদশ বার্ষিক সাধারণ সভা।
২।অশুদ্ধবাক্য : এ বিষয়ে আমাদের কোন দৈন্যতা নেই।
৩।অশুদ্ধবাক্য :এখানে খাঁটি গরুর দুধ পাওয়া যায়।
৪। অশুদ্ধবাক্য :এ বিষয়ে অজ্ঞানতাই তার পতনের কারণ।
৫।অশুদ্ধবাক্য :এটা লজ্জাস্কর ব্যাপার।
৬। অশুদ্ধবাক্য :একের বোঝা, দশের লাঠি।
৭। অশুদ্ধবাক্য :এ মামলায় আমি সাক্ষী দেব না।
৮।অশুদ্ধবাক্য :এখানে প্রবেশ নিষেধ।
৯।অশুদ্ধবাক্য :এতে গৌরব লোপ হয়েছে।
১০।অশুদ্ধবাক্য :কলেজ চলাকালীন সময়ে হর্ন বাজানো নিষেধ।
১১।অশুদ্ধবাক্য :কেউ মরে বিল সেঁচে, কেউ খায় শিং।
১২) অশুদ্ধবাক্য :কথাটি সঠিক নয়।
১৩) অশুদ্ধবাক্য :কাব্যটির উৎকর্ষতা প্রশংসনীয়।
১৪) অশুদ্ধবাক্য :কারও দৈন্যতা নিয়ে উপহাস কর না।
১৫) অশুদ্ধবাক্য :কন্যার বাপ সবুর করতে পারতেন, কিন্তু বরের বাপ সবুর করিতে চাহিলেন না।
১৬) অশুদ্ধবাক্য :কালীদাস বিখ্যাত কবি।
১৭) অশুদ্ধবাক্য :কুপুরুষের মতো কথা বলছ কেন?
১৮) অশুদ্ধবাক্য :কীর্তিবাস বাংলা রামায়ন লিখেছেন।
১৯) অশুদ্ধবাক্য :গীতাঞ্জলী একখানা কাব্যগ্রন্থ।
২০) অশুদ্ধবাক্য :গতকালের সভায় সকল সদস্যগণ উপস্থিত ছিল।
২১) অশুদ্ধবাক্য :গাছে কাঁঠাল মাথায় তেল।
২২) অশুদ্ধবাক্য :গাছটি সমূলসহ উৎপাটিত হয়েছে।
২৩) অশুদ্ধবাক্য :চোরে চোরে চাচাতো ভাই।
২৪)অশুদ্ধবাক্য : চোখে হলুদফুল দেখছি।
২৫)অশুদ্ধবাক্য : ছেলেটি বংশের মাথায় চুনকালি দিল।
২৬) অশুদ্ধবাক্য :ছেলেটি দুর্দান্ত মেধাবী।
২৭)অশুদ্ধবাক্য : ছেলেটি ভয়ানক মেধাবী।
২৮) অশুদ্ধবাক্য :ঢেঁকি বেহেস্তে গেলেও ধান ভানে।
২৯)অশুদ্ধবাক্য : তার বৈমাত্রেয় সহোদয় ডাক্তার।
৩০)অশুদ্ধবাক্য : তার দুচোখ অশ্রুজলে ভেসে গেল।
৩১) অশুদ্ধবাক্য :তাকে স্বপরিবারে দাওয়াত কর।
৩২) অশুদ্ধবাক্য :তারা একত্রে গমণ করল।
৩৩) অশুদ্ধবাক্য :তোমার মতো বুদ্ধিমান বালিকা আমি আর দেখিনি।
৩৪)অশুদ্ধবাক্য : তিনি স্বস্ত্রীক ঢাকায় থাকেন।
৩৫) অশুদ্ধবাক্য :তিনি স্বপরিবারে ঢাকায় থাকেন।
৩৬) অশুদ্ধবাক্য :তিনি মোকদ্দমায় সাক্ষী দেবেন।
৩৭)অশুদ্ধবাক্য : তাহাকে এখান থেকে যাইতে হবে।
৩৮) অশুদ্ধবাক্য :তিনি আজ ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে ভাষণ দেবে।
৩৯)অশুদ্ধবাক্য : তার সৌজন্যতায় মুগ্ধ হলাম।
৪০) অশুদ্ধবাক্য :তোমার তথ্য গ্রাহ্যযোগ্য নয়।
৪১)অশুদ্ধবাক্য : যাকে দেখতে নারি তার হাঁটা বাঁকা।
৪২)অশুদ্ধবাক্য : রবীন্দ্রনাথ ভয়ঙ্কর কবি ছিলেন।
৪৩) অশুদ্ধবাক্য :শহীদ মিনারে শ্রদ্ধাঞ্জলী অর্পণ করব।
৪৪)অশুদ্ধবাক্য : শুধুমাত্র তুমি গেলেই হবে।
৪৫) অশুদ্ধবাক্য :শ্রাবণী অত্যন্ত বুদ্ধিমান মেয়ে।
৪৬)অশুদ্ধবাক্য : শুধুমাত্র গায়ের জোরে কাজ হয় না।
৪৭) অশুদ্ধবাক্য :শকুনের দোয়ায় হাতি মরে না।
৪৮) অশুদ্ধবাক্য :শুধুমাত্র সেই পারবে এ কাজটি করতে।
৪৯)অশুদ্ধবাক্য : সে সভায় উপস্থিত ছিলেন।
৫০) অশুদ্ধবাক্য :সকল ছাত্র-ছাত্রী ক্লাসে উপস্থিত ছিল।
৫১) অশুদ্ধবাক্য :সকল সভ্যগণ এখানে উপস্থিত ছিলেন।
৫২) অশুদ্ধবাক্য :সকল ছাত্রগণই পাঠে অমনোযোগী।
৫৩) অশুদ্ধবাক্য :ষড়ঋতুর সমাহারের দেশ বাংলাদেশ।
৫৪) অশুদ্ধবাক্য :সারা জীবন ভূতের মজুরি খেটে মরলাম।
৫৫) অশুদ্ধবাক্য :সাবধান পূর্বক চলবে।
৫৬) অশুদ্ধবাক্য :সুশিক্ষার কোনো বিকল্প নেই।
৫৭) অশুদ্ধবাক্য :সে এ মোকদ্দমায় সাক্ষী দিয়েছে।
৫৮) অশুদ্ধবাক্য :সে অপমান হয়েছে।
৫৯) অশুদ্ধবাক্য :সূর্য উদয় হয়েছে।
৬০) অশুদ্ধবাক্য :সব মাছগুলোর দাম কত?
৬১) অশুদ্ধবাক্য :সে আরোগ্য হইয়াছে।
৬২) অশুদ্ধবাক্য :সকল লোকেরাই সেখানে উপস্থিত ছিল।
৬৩) অশুদ্ধবাক্য :সাবধান পূর্বক চলবে।
৬৪) অশুদ্ধবাক্য :সকল ছাত্ররা উপস্থিত আছে।
৬৫)অশুদ্ধবাক্য : সকল সদস্যগণকে অভিনন্দন জানাচ্ছি।
৬৬) অশুদ্ধবাক্য :পরবর্তীতে আপনি আবার আসবেন।
৬৭) অশুদ্ধবাক্য :সভায় অনেক ছাত্রগণ এসেছিল।
৬৮) অশুদ্ধবাক্য :সারথি কশাঘাত করিবামাত্র ঘোড়াগুলো বায়ুবেগে ধাবমান হইল।
৬৯)অশুদ্ধবাক্য : সব পাখিরা নীড় বাঁধে না।
৭০) অশুদ্ধবাক্য :হাটে কলস ভাঙা।
৭১) অশুদ্ধবাক্য :হৃষিতা বুদ্ধিমান মেয়ে।
৭২)অশুদ্ধবাক্য : অপব্যয় একটি মারাত্মক ব্যাধি।
৭৩) অশুদ্ধবাক্য :অভ্যন্তরীণ ব্যাপারে হস্তক্ষেপ অনুচিত।
৭৪)অশুদ্ধবাক্য : অতি লোভে তাতী নষ্ট।
৭৫) অশুদ্ধবাক্য :আমি সন্তোষ হলাম।
৭৬) অশুদ্ধবাক্য :আপনি স্বপরিবারে আমন্ত্রিত।
৭৭)অশুদ্ধবাক্য : আমার আর বাঁচিবার স্বাদ নাই।
৭৮) অশুদ্ধবাক্য :আমি সাক্ষী দিব না।
৭৯) অশুদ্ধবাক্য :আকণ্ঠ পর্যন্ত ভোজনে স্বাস্থ্যহানী ঘটে।
৮০)অশুদ্ধবাক্য : আমি এই ঘটনা চাক্ষুষ প্রত্যক্ষ করেছি।
৮১। অশুদ্ধবাক্য :আসছে আগামীকাল কলেজ বন্ধ থাকবে।
৮২। অশুদ্ধবাক্য : পরবর্তীতে আপনি আসবেন।
৮৩। অশুদ্ধবাক্য : সকল দৈন্যতা দূর হয়ে যাক।
৮৪। অশুদ্ধবাক্য : সেখানে গেলে তুমি অপমান হবে।
৮৫।অশুদ্ধবাক্য : আমি অপমান হয়েছি।
৮৬।অশুদ্ধবাক্য : সূর্য উদয় হয়নি।
৮৭।অশুদ্ধবাক্য : সত্য প্রমাণ হোক।
৮৮।অশুদ্ধবাক্য : তার কথার মাধুর্যতা নাই।
৮৯। অশুদ্ধবাক্য : রাধা দেখতে খুব সুন্দরী ছিল।
৯০।অশুদ্ধবাক্য : এটি অপক্ক হাতের কাজ।
৯১।অশুদ্ধবাক্য : স্বল্পবিদ্যা ভয়ংকরী।
৯২।অশুদ্ধবাক্য : অভাবে চরিত্র নষ্ট।
৯৩। অশুদ্ধবাক্য : বিদ্বান মূর্খ অপেক্ষা শ্রেষ্ঠতর।
৯৪। অশুদ্ধবাক্য : অল্পদিনের মধ্যে তিনি আরোগ্য হলেন।
৯৫।অশুদ্ধবাক্য : সৎ চরিত্রবান লোক সবার কাছে প্রিয়।
৯৬। অশুদ্ধবাক্য : মাতাহীন শিশুর অনেক দুঃখ।
৯৭। অশুদ্ধবাক্য : শে ভাগ্যবতী মহিলা।
৯৮। অশুদ্ধবাক্য : মিলাদে গোলাপজলের পানি ছিটাও।
৯৯। অশুদ্ধবাক্য : বইটি তার জরুরি প্রয়োজন।
১০০। অশুদ্ধবাক্য : সবাই বাবা-মার সুস্বাস্থ্য কামনা করে।
১০১। অশুদ্ধবাক্য : ছেলেটি শুধুমাত্র /কেবলমাত্র ১০টি টাকার জন্য মারামারি করল।
১০২। অশুদ্ধবাক্য : ৫ বছর সময়কাল ধরে তারা জনগনকে সেবা দিতে ব্যর্থ হচ্ছে।
১০৩।অশুদ্ধবাক্য : ভারত ব্রিটিশদের অধীনস্থ ছিল বলেই তারা যুদ্ধ করেছিল।
১০৪। অশুদ্ধবাক্য : আপনারাই প্রথম তাদেরকে সুস্বাগতম জানালেন।
১০৫।অশুদ্ধবাক্য : সাপুড়ে সাপকে খেলায়।
১০৬।অশুদ্ধবাক্য : পাহাড়কে নাড়ায় সাধ্য কার।
১০৭। অশুদ্ধবাক্য : আপনি তো ছুরিতে মানুষ মারেন।
১০৮। অশুদ্ধবাক্য : ধর্মের কল বাতাসেতে নড়ে।

ণ-ত্ব বিধান ও ষ-ত্ব বিধান



























বাংলা (দেশি), তদ্ভব ও বিদেশি শব্দের বানানে মূর্ধন্য-ণ বর্ণ লেখার প্রয়োজন হয় না। বাংলা ভাষায় ‘ণ’ ব্যবহৃত হয় শুধু তৎসম শব্দে। তৎসম শব্দের বানানে ণ ব্যবহারের নিয়মগুলোকে ণ-ত্ব বিধান বলে।

ণ-ব্যবহারের নিয়ম

ট-বর্গীয় ধ্বনির (ট, ঠ, ড, ঢ) পূর্বে তৎসম শব্দে সবসময় মূর্ধন্য-ণ হয়। যেমন:

  • ঘণ্টা (ণ্ট = ণ্ + ট)
  • বণ্টন
  • লুণ্ঠন
  • খণ্ড (ণ্ড = ণ্ + ড) ইত্যাদি।

ঋ, র, ষ বর্ণের পরে মূর্ধন্য-ণ হয়। যেমন:

  • ঋণ
  • তৃণ
  • বর্ণ
  • বর্ণনা
  • উদাহরণ
  • আচরণ
  • অরণ্য
  • অক্ষুণ্ণ
  • আবরণ
  • আচরণ
  • উচ্চারণ
  • কারণ
  • জাগরণ
  • ধারণা
  • ব্যাকরণ
  • লক্ষণ
  • আমন্ত্রণ (ন্ত্র = ন্ + ত্ + র)
  • ঘ্রাণ (ঘ্র = ঘ্ + র)
  • অর্ণব (র্ণ = র্ + ণ)
  • অন্বেষণ
  • আকর্ষণ
  • বর্ধিষ্ণু (ষ্ণ = ষ্ + ণ)
  • প্রশিক্ষণ (ক্ষ = ক্ + ষ) ইত্যাদি।

যদি ঋ, র, ষ বর্ণের পরে স্বরবর্ণ, ক-বর্গ, প-বর্গ, য, ব, হ, য় অথবা অনুস্বর (ং) থাকে, তার পরে মূর্ধন্য-ণ হয়। যেমন:

  • কৃপণ (ঋ কারের পরে প, তার পরে ণ)
  • নির্বাণ
  • গ্রহণ ইত্যাদি।

প্র, পরা, পরি, নির – এ চারটি উপসর্গের পর স্বরবর্ণ থাকলে কৃৎ প্রত্যয়ে ণ-হয়। যেমন:

  • পরিণত
  • প্রণাম
  • প্রমাণ
  • প্রণীত
  • নির্ণয় ইত্যাদি।

কতগুলো শব্দে স্বভাবতই মূর্ধন্য-ণ হয়। যেমন: (ছন্দ আকারে)

চাণক্য মাণিক্য গণ          বাণিজ্য লবণ মণ
          বেণু বীণা কঙ্কণ কণিকা।
কল্যাণ শোণিত মণি          স্থাণু গুণ পুণ্য বেণী
          ফণী অণু বিপণি গণিকা।
আপণ লাবণ্য বাণী          নিপুণ ভণিতা পাণি
         গৌণ কোণ ভাণ পণ শাণ।
চিক্কণ নিক্কণ তূণ          কফণি (কনুই) বণিক গুণ
          গণনা পিণাক পণ্য বাণ।

উল্লেখ্য এখানে শোণিত অর্থ রক্ত, স্থাণু অর্থ স্থির/নিশ্চল, বিপণি অর্থ বিক্রয়কেন্দ্র, গণিকা অর্থ যৌনকর্ম করে যারা, আপণ অর্থ দোকান, পাণি অর্থ হাত, ভাণ অর্থ সংস্কৃত নাটকবিশেষ, চিক্কণ অর্থ সুপারি গাছ বা স্নিগ্ধ/মসৃণ, নিক্কণ অর্থ ধ্বনি/শব্দ, তূণ অর্থ যাতে বাণ রাখা হয় বা নিষঙ্গ, পিণাক অর্থ ত্রিশূল।

কোথায় ণত্ব বিধান খাটে না?

নিম্নক্তো ক্ষেত্রগুলোতে ণ-তত্ত্ব বিধানের নিয়মাবলি খাটে না-

  • ত-বর্গের (ত, থ, দ, ধ) ধ্বনির সাথে দন্ত্য-ন হয়। যেমন: বৃন্ত, বৃন্দ, গ্রন্থ ইত্যাদি।
  • বাংলা ক্রিয়াপদের অন্তঃস্থিত দন্ত্য-ন মূর্ধন্য-ণ হয় না। যেমন: ধরেন, মারেন, করেন, যাবেন, খাবেন, হবেন, নিবেন, দিবেন ইত্যাদি।
  • বিদেশী শব্দে দন্ত্য-ন হয়। যেমন: কোরআন, জার্মান, জবান, নিশান, ফরমান, রিপন ইত্যাদি।
  • পূর্বপদে ঋ, র, ষ থাকলে পরপদে মূর্ধন্য-ণ হয় না। যেমন: মৃগনাভি, দুর্নাম, ত্রিনেত্র, মৃন্ময়।
  • সমাসবদ্ধ শব্দে ণ-ত্ব বিধান খাটে না। যেমন: ত্রিনয়ন, সর্বনাম ইত্যাদি।

ষত্ব বিধান

যেসব তৎসম শব্দে ‘ষ’ রয়েছে তা বাংলায় অবিকৃত আছে। তৎসম শব্দের বানানে ষ এর সঠিক ব্যবহারের নিয়মই ষত্ব বিধান।

ষ ব্যবহারের নিয়ম

অ, আ বাদে অন্য স্বরধ্বনি, ক ও র- এরপরের প্রত্যয়াদির দন্ত্য-স মূর্ধন্য-ষ হয়। যেমন:

  • ভবিষ্যৎ (ভ + অ + ব +  + ষ + …)
  • পরিষ্কার, আবিষ্কার
  • মুমূর্ষু
  • চিকির্ষা (চ + ই + ক + ই + র্ + ষ +…)

অতি, অভি এমন শব্দের শেষে ই-কার উপসর্গ এবং অনু ও সু উপসর্গের পরে কতগুলো ধাতুর দন্ত্য-স মূর্ধন্য-ষ হয়। যেমন:

  • অতিষ্ঠ
  • অনুষ্ঠান
  • নিষেধ
  • অভিষেক
  • বিষণ্ন(‘ণ্ন’ মূর্ধ-ণ পরে দন্ত্য-ন)
  • সুষম ইত্যাদি

ঋ-কারে পরে মূর্ধন্য-ষ হয়। যেমন:

  • ঋষি
  • কৃষক
  • বৃর্ষা, বর্ষণ, বৃষ্টি
  • তৃষ্ণা ইত্যাদি

র-ধ্বনির পরে যদি অ, আ ভিন্ন অন্য ধ্বনি থাকে তবে তার পরে ষ হয়। যেমন: পরিষ্কার, আবিষ্কার। কিন্তু অ,আ থাকলে স হয়। যেমন: পুরস্কার।

নিঃ, দুঃ, বহিঃ, আবিঃ, চতুঃ, প্রাদুঃ এ শব্দগুলোর পর ক্‌, খ্‌, প্‌, ফ্‌ থাকলে বিসর্গ (ঃ) এর জায়গায় মূর্ধন্য-ষ হয়। যেমন: নিঃ + কাম > নিষ্কাম, দুঃ + কর > দুষ্কর, বহিঃ + কার > বহিষ্কার, নিঃ + পাপ > নিষ্পাপ।

ট ও ঠ এর সঙ্গে যুক্ত থাকলে ষ হয়। যেমন: স্পষ্ট, কাষ্ট ইত্যাদি।

কিছু শব্দ স্বভাবতই মূর্ধন্য-ষ হয়। যেমন: আষাঢ়, নিষ্কর, পাষাণ, ষোড়শ ইত্যাদি।

কতগুলো শব্দ বিশেষ নিয়মে মূর্ধন্য-ষ হয়। যেমন: আষাঢ়, ষোড়শ, আভাষ, অভিলাস, পোষণ, পাষাণ, তোষণ, শোষণ, বিষাণ, সুষুপ্তি, বিষম, বিষয়, দুর্বিষহ, যুধিষ্ঠির ইত্যাদি।

কোথায় ষত্ব বিধান নিষেধ বা খাটে না?

  • সাৎ প্রত্যয়ের দন্ত্য-স মূর্ধন্য-ষ হয় না। যেমন-
    • ভূমিসাৎ, ধূলিসাৎ, আকস্মাৎ।
  • খাঁটি বাংলা ও বিদেশী শব্দে মূর্ধন্য-ষ হয় না। যেমন-
    • টেক্স, পুলিশ, জিনিস, মিসর, গ্রিস, স্টেশন, মুসাবিদা।
  • অঃ বা আঃ থাকলে তার পরে ক্‌, খ্‌, প্‌, ফ্‌ সন্ধিযুক্ত হলে বিসর্গ (ঃ) এর জায়গায় দন্ত্য-স হয়। যেমন-
    • পুরঃ + কার = পুরস্কার, ভাঃ + কর = ভাস্কর, তিরঃ + কার = তিরস্কার, পরঃ+ পর= পরস্পর, স্বতঃ + ফূর্ত= স্বতঃস্ফূর্ত
  • অঃ বা আঃ থাকলে তার পরে ক্‌, খ্‌, প্‌, ফ্‌ ছাড়াও ত থাকলেও স হতে পারে। যেমন-
    • মনঃ+ তাপ = মনস্তাপ, শিরঃ + ত্রাণ= শিরস্ত্রাণ।

এক নজরে কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন

ণ-ত্ব ও ষ-ত্ব বিধান কাকে বলে? উ: ণ-ত্ব ও ষ-ত্ব বিধান বাংলা ব্যাকরণের বিশেষ নিয়ম। বাংলা ভাষার অন্তর্গত শব্দে ণ ও ষ ব্যবহারের যে নিয়ম তাকে যথাক্রমে ণ-ত্ব ও ষ-ত্ব বিধান বলে।

ণ-ত্ব ও ষ-ত্ব বিধান ব্যাকরণের কোন অংশে আলোচিত হয়? উ: ধ্বনিতত্ত্বে। কারণ এটি ধ্বনি সম্বন্ধীয় বিষয়।

ণ-ত্ব ও ষ-ত্ব বিধান কোন শব্দের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য? উ: বাংলা ভাষায় ৫ প্রকার শব্দ রয়েছে। যথা: তৎসম, অর্ধ-তৎসম, তদ্ভব, দেশি ও বিদেশি। এর মধ্যে শুধু তৎসম শব্দের বানানের ক্ষেত্রে ণ-ত্ব ও ষ-ত্ব বিধান প্রযোজ্য।

কোন শব্দে সাধারণত ণ-ত্ব বিধান প্রযোজ্য নয়? উ: তৎসম শব্দ ব্যতিত অন্যান্য শব্দের ক্ষেত্রে ণ-ত্ব ও ষ-ত্ব বিধান প্রযোজ্য নয়।

ধ্বনি পরিবর্তন






















ধ্বনি পরিবর্তন

ভাষার শব্দগুলো বহুজনে ব্যবহৃত হতে হতে কখনো কখনো সেই শব্দের ধ্বনিসমূহের মধ্যে কোনো কোনো ধ্বনি লোপ পায় কিংবা নতুন ধ্বনির আগমন ঘটে, কিন্তু শব্দটি দ্বারা পূর্বের অর্থই বোঝায়। ধ্বনির এরকম পরিবর্তনকে ধ্বনিপরিবর্তন বলে। যেমন: স্কুল>ইস্কুল; পিশাচ> পিচাশ ইত্যাদি। বিভিন্ন প্রকার ধ্বনি পরিবর্তন নিম্নরূপ –

আদি স্বরাগম (Prothesis): মূল শব্দের আদিতে স্বরধ্বনির আগমন ঘটলে তাকে আদি স্বরাগম বলে। যেমন:

  • স্কুল > স্কুল
  • স্পর্ধা > স্পর্ধা
  • স্তাবল > স্তাবল
  • স্টিমার > স্টিমার ইত্যাদি।

মধ্য স্বরাগম (Anaptyxis): মূল শব্দের মধ্যে স্বরধ্বনির আগমন ঘটলে তাকে মধ্য স্বরাগম বলে। যেমন:

  • রত্ন > রতন (র্+অ+ত+ন)
  • ধর্ম > ধরম
  • স্বপ্ন > স্বপন
  • ফিল্ম > ফিলিম
  • মুক্ত > মুকুতা
  • ভ্রু >ভুরু
  • গ্রাম > গেরাম
  • শ্লোক > শোলক
  • মুরগ > মুরোগ
  • ক্লি > কিলিপ ইত্যাদি।

অন্ত স্বরাগম (Apotheosis): মূল শব্দের শেষে স্বরধ্বনির আগমন ঘটলে তাকে অন্ত স্বরাগম বলে। যেমন:

  • সত্য>সত্যি
  • বেঞ্চ>বেঞ্চি
  • পোখত্ > পোক্ত
  • দিশ্> দিশা ইত্যাদি।

অপিনিহিতি (Apenthesis): শব্দমধ্যস্থ পরের ই বা উ ধ্বনি আগে উচ্চারণের প্রবণতাকে অপিনিহিত বলে। অর্থ্যাৎ শব্দে ই বা উ ধ্বনি থাকলে তাদের উচ্চারণ যথাস্থানের আগে করার প্রবণতাই অপিনিহিতি। যেমন:

  • আজি > আইজ
  • চারি > চাইর
  • রাখিয়া > রাইখ্যা
  • বাক্য > বাইক্য ইত্যাদি।

অসমীকরণ (Dissimilation): সমধ্বনি পাশাপাশি উচ্চারণের সময় অনেক ক্ষেত্রে মাঝখানে একটি স্বরধ্বনি যুক্ত হয়, তাকে অসমীকরণ বলে। একই ধ্বনির পুনরাবৃত্তি দুর করতে মাঝখানে স্বরধ্বনি যুক্ত হয়। যেমন:

  • ফট+ফট= ফটাফট
  • ধপ+ধপ=ধপাধপ
  • টপ+টপ=টপাটপ ইত্যাদি।

স্বরসঙ্গতি (Vowel Harmony): পরপর দুটি স্বরধ্বনি থাকলে উচ্চারণের সময় একটি পরিবর্তিত হয়ে অন্যটির মতো হওয়াকে স্বরসঙ্গতি বা উচ্চতাসাম্য বলে। যেমন: কবুল>কোবুল; বিলাতি>বিলিতি; মুলা>মুলো; বিদ্যা>বিদ্যে; দেশি>দিশি; তুলা>তুলো; মোজা>মুজো; জুতা>জুতো; ফিতা>ফিতে; নৌকা>নৌকো; পূজা>পূজো; সুতা>সুতো; শিয়াল>শেয়াল; ধুলা>ধুলো ইত্যাদি। একে আবার ৫ ভাগে ভাগ করা যায়। যথা:

  • প্রগত: আদিস্বর অনুযায়ী অন্ত্যস্বর পরিবর্তিত হলে। যেমন: মুলা>মুলো, তুলা>তুলো ইত্যাদি।
  • পরাগত: অন্ত্যস্বর অনুযায়ী আদিস্বর পরিবর্তিত হলে। যেমন: দেশি>দিশি।
  • মধ্যগত: আদিস্বর ও অন্ত্যস্বর অনুযায়ী মধ্যস্বর পরিবর্তিত হলে। যেমন: বিলাতি>বিলিতি
  • অন্যোন্য: আদিস্বর ও অন্ত্যস্বর দুটিই পরস্পর প্রভাবিত হলে। যেমন: মোজা>মুজো
  • চলিত বাংলা সরসঙ্গতি: মিঠা > মিঠে, চুলা > চুলো, ইচ্ছা>ইচ্ছে ইত্যাদি।
  • বিশেষ নিয়মে – এখনি > এখুনি।

ধ্বনিলোপ: উচ্চারণের সময় শব্দস্থিত কিছু ধ্বনি উচ্চারিত হয়না। এই প্রক্রিয়াকে ধ্বনিলোপ বলে। স্বরধ্বনি লুপ্ত হলে বা উচ্চারিত না হলে স্বরধ্বনিলোপ বা সম্প্রকর্ষ, ব্যঞ্জনধ্বনি লুপ্ত হলে ব্যঞ্জনধ্বনিলোপ বা ব্যঞ্জনচ্যুতি বলে। স্বরধ্বনির ক্ষেত্রে-

  • আদিস্বর লোপ: শব্দের আদি বা প্রথমে স্বরধ্বনিলোপ পেলে। যেমন: অলাবু>লাবু>লাউ; উদ্ধার>উধার>ধার ইত্যাদি।
  • মধ্যস্বর লোপ: শব্দের মধ্যে স্বরধ্বনি লোপ পেলে। যেমন: বসতি>বস্ তি; গামোছা>গাম্ ছা ইত্যাদি।
  • অন্ত্যস্বর লোপ: শব্দের অন্তে বা শেষে লোপ পেলে। যেমন: আজি (ই)>আজ; চারি (ই)>চার ইত্যাদি।

উল্লেখ্য স্বরাগম এবং স্বরালোপ সম্পর্কে পরস্পর বিপরীত। অনুরূপভাবে ব্যঞ্জনধ্বনির ক্ষেত্রে-

  • আদি ব্যঞ্জনলোপ: রংপুর>অংপুর; শ্রাবণ>শাবন
  • মধ্যব্যঞ্জনলোপ: মজদুর>মজুর; দুগ্ধ> দুধ
  • অন্তব্যঞ্জনলোপ: বৌদিদি>বৌদি; ছোটকাকা>ছোটকা; শিয়ালদহ>শিয়ালদ

ধ্বনি বিপর্যয়: উচ্চারণের সময় শব্দের দুটি ব্যঞ্জন পরস্পর স্থান পরিবর্তন করলে তাকে ধ্বনি বিপর্যয় বলে। যেমন:

  • নকশা > নশকা
  • কলমি > কমলি
  • পিশাচ > পিচাশ
  • রিক্সা > রিস্কা
  • লোকসান > লোসকান ইত্যাদি।

সমীভবন: উচ্চারণের সময় পাশাপাশি অবস্থিত দুটি ব্যঞ্জনধ্বনি একই রকম হয়ে যাওয়া কিংবা একই রকম হওয়ার প্রবনতাকে সমীভবন বলে। একে ব্যঞ্জনসঙ্গতিও বলা হয়। যেমন: দুর্গা>দুগ্গা; জন্ম>জম্ম ইত্যাদি।

বিসমীভবন: দুটো সমবর্ণের একটির পরিবর্তনকে বিষমীভবন বলে। যেমন:

  • শরীর > শরীল
  • লাল > নাল
  • জরুরি > জরুলি
  • লাঙ্গল > নাঙ্গল ইত্যাদি।

ব্যঞ্জন বিকৃতি: শব্দের মধ্যে কোন ব্যঞ্জনধ্বনি পরিবর্তিত হয়ে কোন নতুন ব্যঞ্জনধ্বনি ব্যবহৃত হয়, তাকে ব্যঞ্জন বিকৃতি বলে। যেমন:

  • কবাট>কপাট
  • ধোবা>ধোপা
  • ধাইমা>দাইমা
  • শাক>শাগ ইত্যাদি।

ব্যঞ্জনদ্বিত্বতা: জোর দেওয়ার জন্য শব্দের অন্তর্গত ব্যঞ্জনের দ্বিত্ব উচ্চারণ হলে তাকে ব্যঞ্জনদ্বিত্বতা বলে। যেমন: পাকা > পাক্কা, সকাল > সক্কাল ইত্যাদি।

অন্তর্হতি: শব্দের মধ্যে কোন ব্যঞ্জনধ্বনি লোপ পেলে তাকে অন্তর্হতি বলে। যেমন: ফাল্গুন>ফাগুন, ফলাহার > ফলার, আলাদিয়া > আলাদা ইত্যাদি।

অভিশ্রুতি: অপিনিহিতি ও পরে বিপর্যয়ের ফলে পরিবর্তিত ধ্বনিতে যদি অপিনিহিতির প্রভাবজনিত ই কিংবা উ ধ্বনি পূর্বধ্বনির সঙ্গে মিলে শব্দের পরিবর্তন ঘটায় তাকে অভিশ্রুতি বলে। যেমন: (করিয়া>করিইয়া>কইরা>করে) করিয়া থেকে অপিনিহিতির ফলে করিইয়া হয়, তা থাকে বিপর্যয়ের ফলে কইরা হয় এবং শেষে অভিশ্রুতির ফলে করে শব্দ গঠিত হয়। অনুরূপভাবে, মানিয়া > মাইন্যা > মেনে; আজি > আইজ > আজ ইত্যাদি।

সমীকরণ: পর পর দুটি ব্যঞ্জনধ্বনির উচ্চারণ স্থান পৃথক হলে এবং এর মধ্যে একটির ধ্বনি বদলে গেলে, (যাতে ধ্বনি দুটির উচ্চারণ স্থান কাছাকাছি হয়) তাকে সমীকরণ বলে। যেমন: অনু+স্থান = অনুষ্ঠান।

র-কার লোপ: আধুনিক চলিত বাংলায় অনেক ক্ষেত্রে র-কার লোপ পায় এবং পরবর্তী ব্যঞ্জন দ্বিত্ব হয়। যেমন: তর্ক>তক্ক, করতে, কত্তে।

হ-কার লোপ: দুই স্বরের মাঝামাঝে হ-কারের লোপ হয়। যেমন: পুরোহিত>পুরুত, গাহিল>গাইল, শাহ্>শা ইত্যাদি।


আমাদের কোর্সসমূহ:

যে কোর্সটি কিনতে চান তা সম্পর্কে জানতে কোর্সটিকে ক্লিক করুন:


Constitution

সংবিধান

কোর্স ফি: ১১০ টাকা

ক্লাস সংখ্যা: 20 টি

পরিক্ষা: 10 টি

Geometry

জ্যামিতি

কোর্স ফি: ১১০ টাকা

ক্লাস সংখ্যা: 20 টি

পরিক্ষা: 10 টি

Liberation war

মুক্তিযুদ্ধ

কোর্স ফি: ১১০ টাকা

ক্লাস সংখ্যা: 20 টি

পরিক্ষা: 10 টি

Jane

ইংরেজি ব্যাকরণ

কোর্স ফি: ১১০ টাকা

ক্লাস সংখ্যা: 20 টি

পরিক্ষা: 10 টি

Mike

ভুগোল

কোর্স ফি: ১১০ টাকা

ক্লাস সংখ্যা: 20 টি

পরিক্ষা: 10 টি

John

ইতিহাস

কোর্স ফি: ১১০ টাকা

ক্লাস সংখ্যা: 20 টি

পরিক্ষা: 10 টি

Jane

পৌরনীতি ও সুশাসন

কোর্স ফি: ১১০ টাকা

ক্লাস সংখ্যা: 20 টি

পরিক্ষা: 10 টি

Mike

জ্যামিতি

কোর্স ফি: ১১০ টাকা

ক্লাস সংখ্যা: 20 টি

পরিক্ষা: 10 টি

John

মুক্তিযুদ্ধ

কোর্স ফি: ১১০ টাকা

ক্লাস সংখ্যা: 20 টি

পরিক্ষা: 10 টি

Jane

ইংরেজি ব্যাকরণ

কোর্স ফি: ১১০ টাকা

ক্লাস সংখ্যা: 20 টি

পরিক্ষা: 10 টি

Mike

ভুগোল

কোর্স ফি: ১১০ টাকা

ক্লাস সংখ্যা: 20 টি

পরিক্ষা: 10 টি

John

ইতিহাস

কোর্স ফি: ১১০ টাকা

ক্লাস সংখ্যা: 20 টি

পরিক্ষা: 10 টি

page visited: web counter