মধ্যযুগের অনুবাদ সাহিত্যগুলো মূলত ভাবানুবাদ। এযুগের কবিরা পয়ার ছন্দে ভাবানুবাদগুলো রচনা করেছেন। উল্লেখযোগ্য অনুবাদ সাহিত্যগুলো হল – রামায়ণ, মহাভারত, ভাগবত ইত্যাদি।
মহাভারত
মহাভারত কথাটির অর্থ হল ভরত বংশের মহান উপাখ্যান। প্রায় ২৫০০ বছর পূর্বে কৃষ্ণ দ্বৈপায়ণ বেদব্যাস সংস্কৃত ভাষায় মহাভারত রচনা করেন। বেদ বাক্য ব্যাখ্যা করার জন্য তার নাম ‘বেদব্যাস’। তিনি হিমালয়ের এক পবিত্র গুহায় তপস্যার পর মহাভারতের কাহিনী স্মরণ করেন এবং গণেশ সেই কাহিনী লিপিবদ্ধ করেন। মোট ১৮টি খণ্ড ও ৮৫০০০ শ্লোক রয়েছে মহাভারত মহাকাব্যে। এতে পাণ্ডব বংশের পাঁচ ভাইয়ের সঙ্গে কুরু বংশের ১০০ ভাইয়ের যুদ্ধের কাহিনী বিদ্ধৃত হয়েছে।
ষোড়শ শতাব্দীতে কবি কবীন্দ্র পরমেশ্বর প্রথম মহাভারত বাংলায় অনুবাদ করেন। তিনি তার কাব্যের নাম দিয়েছিলেন বিজয়পান্ডবকথা বা ভারত পাঁচালী। তিনি পরাগল খানের (নবাব হোসেন শাহের সেনাপতি) পৃষ্ঠপোষকতায় এটি অনুবাদ করেন বলে তার অনুদিত মহাভারত গন্থকে ‘পরাগালী মহাভারত‘ও বলা হয়। মহাভারতের শ্রেষ্ঠ অনুবাদক কাশিরাম দাস।
রামায়ণ
বাল্মীকি সংস্কৃত ভাষায় রামায়ণ রচনা করেন। এটি ৭টি কাণ্ড বা খণ্ডে বিভক্ত ও ২৪০০০ শ্লোকে রচিত মহাকাব্য। শ্লোকগুলো ৩২ অক্ষরযুক্ত ‘অনুষ্টুপ’ ছন্দে রচিত। এ কাব্যের মূল উপজীব্য বিষ্ণুর অবতার রামের জীবনকাহিনী।
রামায়ণের রচয়িতা বাল্মীকির মূল নাম দস্যু রত্নাকর। তিনি এই নামে দস্যুবৃত্তি করতেন। বাল্মীক শব্দের অর্থ উইপোকা। দস্যু রত্নাকর উইপোকার ডিবির ওপর বসে তপস্যা করতেন বলে তিনি বাল্মীকি নামে পরিচিত।
রামায়ণের প্রথম বাংলা অনুবাদক কৃত্তিবাস ওঝা। তার রচিত রামায়ণের নাম শ্রীরাম পাঁচালী।
ভগবত
এটি একটি ভক্তিবাদী ধর্মগ্রন্থ। মালাধর বসু একে ‘শ্রীকৃষ্ণবিজয়’ নামে অনুবাদ করেন।