সাধারণত খ্রিস্টীয় ১৩-১৪শ শতক পর্যন্ত বাংলা সাহিত্যের আদি-মধ্যযুগ বা চৈতন্যপূর্ব যুগ বলে চিহ্নিত করা হয়। এ সময়ের বাংলা সাহিত্য তিনটি প্রধান ধারায় বিকশিত হয়েছে। যথা: বৈষ্ণব সাহিত্য, মঙ্গল সাহিত্য এবং অনুবাদ সাহিত্য।
মধ্যযুগের প্রথম ও শ্রেষ্ঠ নিদর্শন শ্রীকৃষ্ণকীর্তন। এটি রচনা করেন বড়ু চণ্ডীদাস। ড. মুহাম্মাদ শহীদুল্লার মতে কাব্যটির রচনাকাল ১৪০০ খ্রি.। বাংলা সাহিত্যের সর্বজন স্বীকৃত ও খঁটি বাংলায় রচিত প্রথম কাব্যগ্রন্থ হল শ্রীকৃষ্ণকীর্তন। এটি রাধাকৃষ্ণের প্রণয়কথা বিষয়ক একটি আখ্যানকাব্য।
১৯০৯ সালে বসন্তরঞ্জন রায় বিদ্বদ্বল্লভ পশ্চিমবঙ্গের বাঁকুড়া জেলার কাঁকিল্যা গ্রামের দেবেন্দ্রনাথ মুখোপাধ্যায় নামক এক ব্রাহ্মণের বাড়ির গোয়ালঘর থেকে এই পুথিটি উদ্ধার করেন। প্রাচীন পুথিগুলিতে সচরাচর প্রথম বা শেষ পাতায় পুথির নাম লেখা থাকে। কিন্তু প্রাপ্ত পুথিটির মাঝখানের এবং শেষের কয়েকটি পাতা না থাকায় এর নাম জানা যায়নি। তবে পুঁথির সাথে পাওয়া একটি চিরকুট অনুসারে এ কাব্যের নাম ‘শ্রীকৃষ্ণসন্দর্ভ’। বসন্তরঞ্জন রায় কাব্যটির নাম দেন ‘শ্রীকৃষ্ণকীর্তন’। তার সম্পাদনায় ১৯১৬ সালে বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষদ থেকে কাব্যটি প্রকাশিত হয়। উল্লেখ্য বসন্তরঞ্জন রায়-এর উপাধি ছিল বিদ্বদ্বল্লভ।
শ্রীকৃষ্ণকীর্তন কাব্যেটিতে মোট খণ্ড ১৩টি ও পদ ৪১৮টি। এটি পয়ার ও ত্রিপদী ছন্দে রচিত। কাব্যের প্রধান চরিত্র কৃষ্ণ, রাধা ও বড়াই। বড়াই রাধাকৃষ্ণের প্রেমের দূতি।
ভগবান বিষ্ণুর অবতাররূপে কৃষ্ণের জন্ম। বৃন্দাবনে বড়াইয়ের সহযোগিতায় রাধার সঙ্গে তার প্রণয় এবং শেষে বৃন্দাবন ও রাধা উভয়কে ত্যাগ করে কৃষ্ণের চিরতরে মথুরায় অভিপ্রয়াণ।
– ‘শ্রীকৃষ্ণকীর্তন’ কাব্যের মূল উপজীব্য।
গঠন নৈপুন্যের দিক থেকে শ্রীকৃষ্ণকীর্তনের অধিকাংশ পদই কৃষ্ণ, রাধা ও বড়াইয়ের সংলাপ। তাই গঠনরীতি অনুসারে কাব্যটি মূলত নাট্যগীতি।