বাংলা একাডেমি
১৯৫৫ সালের ৩রা ডিসেম্বর ঢাকার ঐতিহাসিক বর্ধমান হাউজে বাংলা একাডেমি প্রতিষ্ঠিত হয়। এর উদ্বোধন করেন যুক্তফ্রন্ট সরকারের মুখ্যমন্ত্রী আবু হোসেন সরকার। বাংলা একডেমিকে জাতির মননের প্রতীক বলা হয়। ‘The Bengali Academy Act-1957’ এর মাধ্যমে একাডেমিটি স্বায়ত্বশাসিত প্রতিষ্ঠানের মর্যাদা পায়। বাংলা ভাষা ও সাহিত্যে বিশেষ অবদানের জন্য ১৯৬০ সালে ‘বাংলা একাডেমি পুরষ্কার’ চালু করা হয়।
১৫ সেপ্টেম্বর ২০১৩ সালে ‘একাডেমী’ বানানের পরিবর্তে ‘একাডেমি’ বানান চালু করা হয়
বাংলা একাডেমির প্রকাশিত পত্রিকা ৬ টি। যথা-
| পত্রিকার নাম | প্রকাশের ধরন | বিষয় |
|---|---|---|
| বাংলা একাডেমি পত্রিকা | ত্রৈমাসিক | গবেষণামূলক |
| উত্তরাধিকার | মাসিক | সৃজনশীল সাহিত্য |
| ধান শালিকের দেশ | ত্রৈমাসিক | কিশোর সাহিত্য |
| বাংলা একাডেমি বিজ্ঞান পত্রিকা | ষাণ্মাষিক | বিজ্ঞান বিষয়ক |
| বার্তা | মাসিক | মুখপত্র |
| বাংলা একাডেমি জার্নাল | ষাণ্মাষিক | – |
বাংলা একাডেমির স্বপ্নদ্রষ্টা - ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ।
বাংলা একাডেমি প্রতিষ্ঠিত হয়- 1955 সালে
বাংলা একাডেমির পূর্বনাম- বর্ধমান হাউস
ড়া দৈনিক আজাদ পত্রিকা বাংলা একাডেমি গঠনে জনমত সৃষ্টিতে ভূমিকা রাখে।
১৯৫৫ সালে ৩ ডিসেম্বর পূর্ব পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী আবু হোসেন সরকার উদ্বোধন করেন "বাংলা একাডেমি"
বাংলা একাডেমির প্রথম সচিব মুহম্মদ বরকতুল্লাহ। তার পদবি ছিল "স্পেশাল অফিসার"
বাংলা একাডেমির প্রথম প্রকাশিত বই আহমদ শরীফ সম্পাদিত দৌলত উজির বাহরাম খান রচিত লায়লী-মজনু।
২০০৯-২০১১ খ্রিষ্টাব্দে একাডেমির বর্ধমান হাউজ ভবনের দ্বিতীয় ও তৃতীয় তলায় ভাষা আন্দোলন জাদুঘর স্থাপিত হয়েছে।
ভাষা আন্দোলনের ফলে সৃষ্টি হয় বাংলা একাডেমি
১ম পরিচালক- এনামুল হক
১ম মহাপরিচালক- মাযহারুল ইসলাম
১ম নারী মহাপরিচালক- নীলিমা ইব্রাহিম
বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গনে অবস্থিত মোদের গরব ভাস্কর্য
বাংলা একাডেমির বিভিন্ন কার্যক্রম সম্পাদনের জন্য ৪টি বিভাগ রয়েছে। এই বিভাগগুলো হচ্ছে:
গবেষণা, সংকলন ও ফোকলোর বিভাগ
ভাষা, সাহিত্য, সংস্কৃতি ও পত্রিকা বিভাগ
পাঠ্যপুস্তক বিভাগ
প্রাতিষ্ঠানিক পরিকল্পনা ও প্রশিক্ষণ বিভাগ
১৯৮৪ সাল থেকে বাংলা একাডেমি আয়োজিত বইমেলাকে অমর একুশে গ্রন্থমেলা নামকরণ করা হয়।
ধানশালিকের দেশ - কিশোরদের জন্য প্রকাশিত ত্রৈমাসিক সাহিত্য পত্রিকা
১৯৬০ সালে বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার প্রবর্তন করা হয়।
বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং অর্থনীতিতে নোবেল পুরস্কার বিজয়ী অমর্ত্য সেনকেও এই সম্মানসূচক ফেলোশিপ প্রদান করা হয়
শিল্পচর্চায় অনন্য অবদানের জন্য ২০১০ সালে বাংলাদেশের “সর্বোচ্চ বেসামরিক পুরস্কার”[১২][১৩][১৪] হিসাবে পরিচিত “স্বাধীনতা পুরস্কার” প্রদান করা হয় এই প্রতিষ্ঠানটিকে। এছাড়া বাংলা একাডেমিকে আনন্দ পুরষ্কার প্রদান করা হলেও তা প্রত্যাখ্যান করে।
চিত্তরঞ্জন সাহা স্মৃতি পুরস্কার: - ২০১০ খ্রিষ্টাব্দ থেকে অমর একুশে গ্রন্থমেলার প্রবর্তক চিত্তরঞ্জন সাহার নামে একটি পদক প্রবর্তন করা হয়েছে। পূর্ববর্তী বছরে প্রকাশিত বইয়ের গুণমান বিচারে সেরা বইয়ের জন্য প্রকাশককে এই পুরস্কার প্রদান করা হয়।
সরদার জয়েনউদ্দীন স্মৃতি পুরস্কার: অমর একুশে গ্রন্থমেলায় স্টল ও অঙ্গসজ্জার জন্য দেয়া হয় 'সরদার জয়েনউদ্দীন স্মৃতি পুরস্কার'।
পলান সরকার স্মৃতি পুরস্কার: - অমর একুশে গ্রন্থমেলায় সর্বাধিক গ্রন্থ ক্রয়ের জন্য সেরা ক্রেতাকে দেয়া হয় 'পলান সরকার পুরস্কার'।