উপন্যাস
উপন্যাস হলো গদ্যে লেখা দীর্ঘাবয়ব বর্ণনাত্মক কথাসাহিত্য। কথাসাহিত্য বলতে উপন্যাস ও ছোটগল্পকে বোঝায়। ছোটগল্পে কোনো চরিত্রের একটিমাত্র দিকের প্রতিফলন ঘটে আর উপন্যাসে ব্যক্তি জীবনের বৃহত্তম পরিসরের পরিচয় রূপ লাভ করে। বাংলা উপন্যাস রচনার সূচনা হয় উনিশ শতকের প্রথমার্ধে।
বাংলা উপন্যাস লেখার প্রথম প্রচেষ্টা চালান ভবানীচরণ বন্দ্যোপাধ্যায়। তার রচিত উপন্যাস – ‘কলিকাতা কমলালয় (১৮২৩)’, ‘নববাবু বিলাস’, ‘নববিবি বিলাস’। হ্যানা ক্যাথরিন ম্যালন্স রচিত ‘ফুলমণি ও করুণার বিবরণ (১৮৫২)’ বাংলা সাহিত্যের প্রথম উপন্যাস। বাঙালি রচিত প্রথম উপন্যাস হল ‘আলালের ঘরের দুলাল (১৮৫৭)’। এটি রচনা করেন প্যারীচাঁদ ঠাকুর। বঙ্কিমচন্দ্র চট্টপাধ্যায় রচিত ‘দুর্গেশনন্দিনী (১৮৬৫)’ বাংলা সাহিত্যের প্রথম সার্থক উপন্যাস।
বাংলা সাহিত্যের উল্লেখযোগ্য উপন্যাস-
| লেখক | উপন্যাস |
|---|---|
| প্যারীচাঁদ মিত্র | আলালের ঘরের দুলাল: বাংলা সাহিত্যের প্রথম উপন্যাস |
| বঙ্কিমচন্দ্র চট্টপাধ্যায় | দুর্গেশনন্দিনী: বাংলা সাহিত্যের প্রথম সার্থক উপন্যাস কপালকুণ্ডলা, মৃণালিনী, কৃষ্ণকান্তের উইল, ইন্দিরা, যুগলাঙ্গুরীয়, দেবীচৌধুরাণী, রাধারানী, সীতারাম, রজনী, চন্দ্রশেখর, আনন্দমঠ, রাজসিংহ, বিষবৃক্ষ। |
| রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর | বৌঠাকুরানীর হাট: প্রথম প্রকাশিত উপন্যাস, চোখের বালি, গোরা, ঘরে-বাইরে, যোগাযোগ, শেষের কবিতা, দুইবোন, চার অধ্যায়, মালঞ্চ, চতুরঙ্গ, রাজর্ষি, নৌকাডুবি। |
| শরৎচন্দ্র চট্টপাধ্যায় | বড়দিদি: প্রথম প্রকাশিত উপন্যাস, শ্রীকান্ত: আত্নজীবনীমূলক উপন্যাস, গৃহদাহ, পথের দাবী, পল্লীসমাজ, দেবদাস, চরিত্রহীন, নববিধান, দত্তা, দেনা পাওনা, পরিণীতা, বিরাজ বৌ, পন্ডিত মশাই, শেষ প্রশ্ন, শেষের পরিচয়। |
| বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় | পথের পাঁচালী, অপরাজিত, আরণ্যক, আদর্শ হিন্দু হোটেল, অনুবর্তন, ইছামতি, অশনি সংকেত, দেবযান, চাঁদের পাহাড় ইত্যাদি। |
| কালীপ্রসাদ সিংহ | হুতোম প্যঁচার নকশা |
| ইন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় | |
| রমেশচন্দ্র দত্ত | বঙ্গবিজেতা, মধবীকঙ্কন, জীবনপ্রভাত, জীবনসন্ধ্যা |
| নওয়াব ফয়জুন্নেসা চৌধুরী | |
| নজিবর রহমান সাহিত্যরত্ন | আনোয়ারা |
| মোহাম্মদ মোজাম্মল হক | |
| তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায় | ধাত্রীদেবতা, গণদেবতা, পঞ্চগ্রাম, একটি কালো মেয়ের কাহিনী, হাঁসুলী বাঁকের উপকথা, ছবি, অরণ্যবহ্নি, চৈতালী ঘূর্ণি, জলসাঘর |
| কাজী নজরুল ইসলাম | বাঁধনহারা, কুহেলিকা, মৃত্যুক্ষুধা |
| মানিক বন্দোপাধ্যায় | জননী, পদ্মা নদীর মাঝি, শহরতলী, পুতুলনাচের ইতিকথা, দিবারাত্রির কাব্য, অমৃত্যস্য পুত্রা, সোনার চেয়ে দামি, স্বাধীনতার স্বাদ |
| আনোয়ার পাশা | রাইফেল রোটি আওরাত |
| সেলিনা হোসেন | হাঙর নদী গ্রেনেড, পোকামাকড়ের ঘরবসতি, নিরন্তর ঘণ্টাধ্বনি |
| দিলারা হোসেন | ঘর মন ও জানালা |
| শওকত ওসমান | জননী, জাহান্নাম হতে বিদায়, দুই সৈনিক, নেকড়ে অরণ্য, জলাঙ্গী, বনি আদম, ক্রীতদাসের হাসি ইত্যাদি |
| শওকত আলী | প্রদোষে প্রাকৃতজন, ওয়ারিশ |
| অন্নদাশঙ্কর রায় | |
| আবু জাফর শাসুদ্দীন | পদ্মা মেঘনা যমুনা, দেয়াল |
| স্বর্ণকুমারী দেবী | দীপনির্বাণ, মেবার রাজ |
| রাজিয়া খান | বটতলার উপন্যাস |
| সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় | আত্মপ্রকাশ, পূর্ব-পশ্চিম, |
| সত্যেন সেন | , |
| নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায় | বৈতালিক, |
| শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়ে | ঘুণপোকা |
| হরপ্রসাদ শাস্ত্রী | বেণের মেয়ে |
| হাসন রাজা | লোকে সিন্ধু |
| হুমায়ুন কবির | নদী ও নারী |
| অদ্বৈত মল্লবর্মণ | তিতাস একটি নদীর নাম (মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক) |
| রশীদ করিম | উত্তম পুরষ, প্রসন্ন পাষাণ |
| ইমদাদুল হক মিলন | সারাবেলা, নদী উপাখ্যান |
| মাহমুদুল হক | কালো বরফ (৪৬ এর দাঙ্গা ও ‘৪৭ এর দেশভাগের উপর লেখা) |