বৈষ্ণব সাহিত্য
বৈষ্ণব সাহিত্য দুইটি ধারায় বিভক্ত। যথা: বৈষ্ণব পদাবলি ও জীবনী সাহিত্য।
বৈষ্ণব পদাবলি
মধ্যযুগের বাংলা সাহিত্যের অন্যতম শ্রেষ্ঠ সম্পদ বৈষ্ণব পদাবলি। বৈষ্ণব সমাজে এটি মহাজন পদাবলি নামেও পরিচিত। এ পদগুলোর সৃষ্টি হয়েছে রাধাকৃষ্ণের প্রেমলীলা অবলম্বনে। এর অধিকাংশ পদ ব্রজবুলি নামক কৃত্রিম কবিভাষায় রচিত। ব্রজবুলি মূলত বাংলা ও মৈথিলী ভাষার সংমিশ্রণে সৃষ্ট ভাষা।
বাংলা সাহিত্যের একজন উল্লেখযোগ্য ব্যক্তিত্ত্ব শ্রীচৈতন্যদেব। তিনি বৈষ্ণব ধর্ম প্রচার করেছেন। তার প্রচারিত বৈষ্ণব ধর্মকে উপজীব্য করেই বৈষ্ণব পদকর্তারা পদাবলি রচনা করেন। মূলত বৈষ্ণব পদাবলি হল বৌদ্ধ বা বৈষ্ণবীয় ধর্মের গূঢ় তত্ত্ব বিষয়ক সৃষ্ট পদ।
- বৈষ্ণব পদাবলির আদিকবি বিদ্যাপতি (অবাঙালি)।
- বাংলা ভাষায় বৈষ্ণব পদাবলির আদি রচয়িতা / প্রথম কবি চণ্ডীদাস। এছাড়া বৈষ্ণব পদাবলির উল্লখযোগ্য কবি- জ্ঞানদাস, গোবিন্দদাস, বলরাম দাস প্রমূখ।
- কবি জয়দেবকে সংস্কৃত ভাষায় বৈষ্ণব পাবলির প্রথম কবি বলা হয়।
- বৈষ্ণব পদাবলি সংকলন করেন বাবা আউয়াল মনোহর দাস। ষোড়শ শতকের শেষার্ধে তিনি তার ‘পদসমুদ্র’ গ্রন্থে বৈষ্ণব পদাবলি সংকলণ করেন।
বিখ্যাত উক্তি –
- এ সখি হামারি দুখের নাহি ওর, এ ভরা বাদর মাহ বাদর, শূন্য মন্দির মোর – বিদ্যাপতি
- সবার উপরে মানুষ সত্য তাহার উপরে নাই – চণ্ডীদাস
- সুখের লাগিয়া এ ঘর বাধিনু, অনলে পুড়িয়া গেল – জ্ঞানদাস
- রূপ লাগি আঁখি জ্বরে গুণে মন ভোর – জ্ঞানদাস
চণ্ডীদাস সমস্যা: মধ্যযুগের বাংলা সাহিত্যে চারজন চণ্ডীদাসের (বড়ু চণ্ডীদাস, দ্বিজ চণ্ডীদাস, দীন চণ্ডীদাস, চণ্ডীদাস) অস্তিত্ব পাওয়া যায়। কিন্তু তারা প্রত্যকেই পৃথক ব্যক্তি নাকি একই ব্যক্তি একাধিক নাম ব্যবহার করেছেন তা নিয়ে মতভেদ আছে। যেমন অনেক পণ্ডিত দ্বিজ চণ্ডীদাস ও দীন চণ্ডীদাসকে একই ব্যক্তি মনে করেন। উক্ত চারজন কবির অস্তিত্ব নিয়ে যে অস্পষ্টতা তাই চণ্ডীদাস সমস্যা নামে পরিচিত।