হিন্দু কলেজ ও ইয়াংবেঙ্গল
রাজা রামমোহন রায়ের প্রচেষ্টায় ২০ জানুয়ারি ১৮১৭ সালে কলকাতায় হিন্দু কলেজ প্রতিষ্ঠিত হয়। ১৮৫৫ সালে ‘প্রেসিডেন্সি কলেজ’ এ কলেজের স্থলাভিসিক্ত হয়। হিন্দু কলেজের একজন শিক্ষক ছিলেন হেনরি লুই ভিভিয়ান ডিরোজিও। তিনি মাত্র ১৭ বছর বয়সে হিন্দু কলেজে যোগদান করেন। ১৮২৮ সালে তাকে হিন্দু কলেজ থেকে বরখাস্ত করা হয়। তিনি ইয়াং বেঙ্গল আন্দোলনের প্রবক্তা ছিলেন। ইয়াংবেঙ্গল হলো ইংরেজি ভাবধারাপুস্ট বাঙালি যুবক। হিন্দু সমাজের বিদ্যমান সামাজিক ও ধর্মীয় কাঠামো এঁদেরকে বিদ্রোহী করে তুলেছিল। প্রাচীন ও ক্ষয়িষ্ণু প্রথা তথা ধর্মীয় সংস্কার ও সামাজিক শৃঙ্খলমুক্তির প্রয়াস থেকে ইয়ংবেঙ্গলের সদস্যরা মদ্যপানে আনন্দবোধ করতেন। ইয়াং বেঙ্গলের উল্লেখযোগ্য সদস্য হলেন- কৃষ্ণমোহন বন্দ্যোপাধ্যায়, রামগোপাল ঘোষ, রামতনু লাহিড়ি, দক্ষিণারঞ্জন মুখোপাধ্যায়, অমৃতলাল মিত্র, প্যারীচাঁদ মিত্র, কালিপ্রসাদ ঘোষ প্রমুখ। মাইকেল মধুসুদন দত্ত-ও ডিরোজিওর আদর্শে অনুপ্রাণিত হন। পরবর্তীতে ইয়াং বেঙ্গল গোষ্ঠীর সদস্যরা ডিয়োজিওর আদর্শ থেকে বিচ্যুত হলে তিনি নব্য ইয়াংবেঙ্গলদের অনাচার ও উশৃঙ্খলাকে কটাক্ষ করে রচনা করেন তার বিখ্যাত প্রহসন ‘একেই কি বলে সভ্যতা (১৮৫৯)’।
ইয়াংবেঙ্গলদের মুখপত্র / পত্রিকা – এনকোয়ার, জ্ঞানান্বেষণ