বিষয়ভিত্তিক প্রস্তুতিকে আরো সহজতর করে তুলতে বিসিএস জানালা প্রতিনিয়ত বিভিন্ন কোর্স ডেভোলপ করে যাচ্ছে। আশাকরি আমাদের পরিশ্রম শিক্ষার্থীদের প্...
২৬.২.২২
বাংলা গদ্য সাহিত্য
বাংলা সাহিত্যের আধুনিক পর্ব শুরু হয়েছিল আঠারো শতকের প্রারম্ভে (১৮০১-বর্তমান)। কিন্তু প্রকৃতপক্ষে সাহিত্যে আধুনিক যুগের সূচনা হয় ১৮৬০ সালেমাইকেল মধুসুদন দত্তেরআবির্ভাবের মধ্য দিয়ে। আত্মচেতনা, জাতীয়তাবোধ ও মানুষের প্রাধান্যভিত্তিক রচনা আধুনিক বাংলা সাহিত্যের প্রধান বৈশিষ্ট্য। গদ্য সাহিত্যকে এ যুগের প্রতিভূ বলা হয়। এ যুগে গদ্যনির্ভর সাহিত্যের উৎকর্ষ সাধনের ফলে সাহিত্যে প্রবন্ধ, গল্প, উপন্যাস, নাটক প্রভৃতি সৃষ্ট হয়ে বাংলা সাহিত্যকে বৈচিত্র্যমুখী ও সমৃদ্ধ করে তুলেছে।
গদ্য সাহিত্য
মানুষের কথ্য ভাষার লেখ্যরূপ হলো গদ্য। ১৫৫৫ সালে আসামের রাজাকে লেখা কোচবিহারের রাজার একটি পত্রকে বাংলা গদ্য সাহিত্যের প্রাথমিক নিদর্শন হিসেবে ধরা হয়। এছাড়া ১৭৪৩ সালে লিবসন থেকে প্রকাশিত ঢাকার ভূষণার জমিদার পুত্র দোম অ্যান্টনিও রচিত ব্রাক্ষণ রোমান ক্যাথলিক সংবাদ (পটভূমি) বাংলা গদ্যসাহিত্য রচনার প্রাথমিক প্রচেষ্টা হিসেবে বিবেচিত হয়। এটি বাঙালির লেখা প্রথম মুদ্রিত গ্রন্থ। এছাড়া –
বাংলা কথ্য ভাষার আদিগ্রন্থ – মনোএল দা আসসুম্পসাঁওয়ের রোমান লিপিতে লেখা ‘কৃপার শাস্ত্রে অর্থভেদ’
বাংলা ভাষায় মুদ্রিত প্রথম গদ্যগ্রন্থ – মিশন সমাচার (১৮০০)
আঠারো শতকে বাঙ্গালা গদ্যের বিকাশ সূচীত হলেও মূলত সাহিত্যে গদ্যের সূচনা হয় উনিশ শতকে। এসময় প্রমথ চৌধুরী বাংলা গদ্যকে একটি দৃঢ় ভিত্তির ওপর দাঁড় করিয়েছেন।
এক নজরে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান
প্রতিষ্ঠান
প্রতিষ্ঠা
অবদান
ফোর্ট উইলিয়াম কলেজ
১৮০০ সালে
১৮০১-১৮১৫ সাল পর্যন্ত মোট ৮ জন লেখক ১৩ টি বাংলা গদ্য পুস্তক রচনা করেন। এই ৮ জনের অধিকাংশই ফোর্ট উইলিয়াম কলেজের সাথে যুক্ত ছিলেন।
শ্রীরামপুর মিশন
১৮০০ সালে
এখানে প্রথম বাংলা ছাপাখানা স্থাপন করা হয়। রামায়ন, মহাভারত সহ বিভিন্ন সাহিত্য গ্রন্থ প্রকাশিত হয় শ্রীরামপুর মিশনের ছাপাখানা থেকে।
হিন্দু কলেজ
১৮১৭ সালে
‘ইয়াংবেঙ্গল’ আত্মপ্রকাশ করে ও বিকশিত হয় এই কলেজের শিক্ষক ডিরোজিও উদ্দ্যেগে। বিখ্যাত কিছু সাহিত্যিক ইয়াংবেঙ্গলের সাথে যুক্ত ছিলেন।
মোহামেডান লিটারেরি সোসাইটি
১৮৬৩ সালে
সাহিত্য মুসলমানদের প্রতিষ্ঠা লাভের ক্ষেত্রে অবদান রাখে।
ঢাকা মুসলিম সাহিত্য সমাজ
১৯২৬ সালে
মুসলমান সমাজের জীবন ও চিন্তাধারার গতির পরিবর্তন সাধনে বুদ্ধির মুক্তি আন্দোলনের সূত্রপাত করে।
বাংলাদেশ এশিয়টিক সোসাইটি
১৯৫২ সালে
বাংলাপিডিয়া প্রকাশ করে।
বাংলা একাডেমি
১৯৫৫ সালে
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য চর্চা, গবেষণা ও প্রচারে বৃহৎ গবেষণা প্রতিষ্ঠান।
তথ্য
কবর নাটক রচনা করেছেন মুনীর চৌধুরি, কবর কবিতা রচনা করেছেন জসীমউদ্দীন।
সাম্য বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের প্রবন্ধ এবং সাম্যবাদী কাজী নজরুলের কাব্যগ্রন্থ।